
০৮ নভেম্বর, ২০২৫ ১৩:৫২
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের কয়েক শ পরিবার অভিযোগ করেছেন, তাদের পূর্বপুরুষদের জমি দখল করেছে দেশের বড় ওষুধ কোম্পানি অপসোনিন ফার্মা লিমিটেড। কীর্তনখোলা নদীর ভাঙনে হারানো জমি জেগে উঠলেও প্রতিষ্ঠানটি সেটি কংক্রিট দিয়ে ঢেকে দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, কীর্তনখোলা নদীর তীরে আগে দাঁড়ালে যেখানে প্রাকৃতিক পরিবেশ দেখা যেত, সেখানে এখন কংক্রিটের প্রাচীর ও শিল্প-কারখানার ভবন বসানো হয়েছে। নদীর স্রোত কংক্রিটের ব্লকে আটকে যাওয়ায় পানির শব্দও শোনা যায় না।
স্থানীয় রমজান আকন বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম আল্লাহ আমাদের হারানো জমি ফেরত দিয়েছেন। কিন্তু জমি আবারও কংক্রিটে ঢেকে গেছে।’ আরেক বাসিন্দা হাসান জানান, শুধু জমি নয়, নদীর অংশও দখল করেছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিবাদ করলে হামলার ভয় থাকায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া যায়নি।
প্রশাসনের কাছে সহায়তা চাওয়ার পরও জমি উদ্ধার হয়নি।
নদীর ছোট চরগুলো শিল্প প্রাঙ্গণের সঙ্গে মিলিত হয়ে গেছে। জাহাজ চলাচলের জায়গা এখন সংকুচিত হয়ে শুধু ছোট নৌকা চলাচল করতে পারে। এ কারণে কীর্তনখোলার নলছিটির অংশ এখন বৃত্তাকার নৌপথে পরিণত হয়েছে।
প্রশাসনের কাছে সহায়তা চাওয়ার পরও জমি উদ্ধার হয়নি।
নদীর ছোট চরগুলো শিল্প প্রাঙ্গণের সঙ্গে মিলিত হয়ে গেছে। জাহাজ চলাচলের জায়গা এখন সংকুচিত হয়ে শুধু ছোট নৌকা চলাচল করতে পারে। এ কারণে কীর্তনখোলার নলছিটির অংশ এখন বৃত্তাকার নৌপথে পরিণত হয়েছে।
ফেরি চলাচল বন্ধ হলেও খেয়াঘাট এখনো সচল। ট্রলারের চালকরা বলেন, মাসের পর মাস নদীতে ব্লক ফেলার কারণে নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে, চর ও চাষের জমি হারিয়েছে।
প্রশাসনের পদক্ষেপ হিসেবে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসন অভিযোগ প্রমাণের জন্য কোম্পানির বিরুদ্ধে শুনানির নোটিশ জারি করেছিল। ২২ জুলাই নির্ধারিত শুনানিতে অভিযোগকারীরা উপস্থিত থাকলেও অপসোনিনের কোনো প্রতিনিধি হাজির হননি। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) অন্তরা হালদার পরবর্তী সময়ে কোম্পানির অনুপস্থিতির কারণ জানতে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেন।
ওয়ারিশরা জানিয়েছেন, তাদের পরিবারের ২৯ জনের নামে থাকা প্রায় ১৮ একর জমির মধ্যে ৪ একর ৭০ শতাংশ এখন কোম্পানির দখলে। প্রধান অভিযোগকারী মো. হাসান খান বলেন, কোম্পানি তাদের জমিতে জোর করে ভবন তুলেছে, বাধা দিলে হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন। অপসোনিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) বরিশালের সমন্বয়কারী রফিকুল আলম বলেন, কীর্তনখোলা নদীর তীরের চরগুলো অপসোনিনের কাছে বিক্রি হয়ে গেছে এবং কোম্পানি নদীর ভেতর ব্লক ফেলেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নলছিটির সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিজভী আহমেদ সবুজ জানিয়েছেন, সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি অপসোনিনের দখলে রয়েছে বলে অভিযোগ এসেছে। মাঠ পর্যায়ের জরিপের মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট হবে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ২২ জুলাই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে; কিন্তু সিদ্ধান্ত এখনো প্রকাশ করা সম্ভব নয়। জেলা প্রশাসক আশরাফুর রহমান বিষয়টি পরবর্তী সময়ে মন্তব্য করবেন বলে জানিয়েছেন।
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের কয়েক শ পরিবার অভিযোগ করেছেন, তাদের পূর্বপুরুষদের জমি দখল করেছে দেশের বড় ওষুধ কোম্পানি অপসোনিন ফার্মা লিমিটেড। কীর্তনখোলা নদীর ভাঙনে হারানো জমি জেগে উঠলেও প্রতিষ্ঠানটি সেটি কংক্রিট দিয়ে ঢেকে দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, কীর্তনখোলা নদীর তীরে আগে দাঁড়ালে যেখানে প্রাকৃতিক পরিবেশ দেখা যেত, সেখানে এখন কংক্রিটের প্রাচীর ও শিল্প-কারখানার ভবন বসানো হয়েছে। নদীর স্রোত কংক্রিটের ব্লকে আটকে যাওয়ায় পানির শব্দও শোনা যায় না।
স্থানীয় রমজান আকন বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম আল্লাহ আমাদের হারানো জমি ফেরত দিয়েছেন। কিন্তু জমি আবারও কংক্রিটে ঢেকে গেছে।’ আরেক বাসিন্দা হাসান জানান, শুধু জমি নয়, নদীর অংশও দখল করেছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিবাদ করলে হামলার ভয় থাকায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া যায়নি।
প্রশাসনের কাছে সহায়তা চাওয়ার পরও জমি উদ্ধার হয়নি।
নদীর ছোট চরগুলো শিল্প প্রাঙ্গণের সঙ্গে মিলিত হয়ে গেছে। জাহাজ চলাচলের জায়গা এখন সংকুচিত হয়ে শুধু ছোট নৌকা চলাচল করতে পারে। এ কারণে কীর্তনখোলার নলছিটির অংশ এখন বৃত্তাকার নৌপথে পরিণত হয়েছে।
প্রশাসনের কাছে সহায়তা চাওয়ার পরও জমি উদ্ধার হয়নি।
নদীর ছোট চরগুলো শিল্প প্রাঙ্গণের সঙ্গে মিলিত হয়ে গেছে। জাহাজ চলাচলের জায়গা এখন সংকুচিত হয়ে শুধু ছোট নৌকা চলাচল করতে পারে। এ কারণে কীর্তনখোলার নলছিটির অংশ এখন বৃত্তাকার নৌপথে পরিণত হয়েছে।
ফেরি চলাচল বন্ধ হলেও খেয়াঘাট এখনো সচল। ট্রলারের চালকরা বলেন, মাসের পর মাস নদীতে ব্লক ফেলার কারণে নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে, চর ও চাষের জমি হারিয়েছে।
প্রশাসনের পদক্ষেপ হিসেবে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসন অভিযোগ প্রমাণের জন্য কোম্পানির বিরুদ্ধে শুনানির নোটিশ জারি করেছিল। ২২ জুলাই নির্ধারিত শুনানিতে অভিযোগকারীরা উপস্থিত থাকলেও অপসোনিনের কোনো প্রতিনিধি হাজির হননি। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) অন্তরা হালদার পরবর্তী সময়ে কোম্পানির অনুপস্থিতির কারণ জানতে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেন।
ওয়ারিশরা জানিয়েছেন, তাদের পরিবারের ২৯ জনের নামে থাকা প্রায় ১৮ একর জমির মধ্যে ৪ একর ৭০ শতাংশ এখন কোম্পানির দখলে। প্রধান অভিযোগকারী মো. হাসান খান বলেন, কোম্পানি তাদের জমিতে জোর করে ভবন তুলেছে, বাধা দিলে হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন। অপসোনিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) বরিশালের সমন্বয়কারী রফিকুল আলম বলেন, কীর্তনখোলা নদীর তীরের চরগুলো অপসোনিনের কাছে বিক্রি হয়ে গেছে এবং কোম্পানি নদীর ভেতর ব্লক ফেলেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নলছিটির সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিজভী আহমেদ সবুজ জানিয়েছেন, সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি অপসোনিনের দখলে রয়েছে বলে অভিযোগ এসেছে। মাঠ পর্যায়ের জরিপের মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট হবে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ২২ জুলাই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে; কিন্তু সিদ্ধান্ত এখনো প্রকাশ করা সম্ভব নয়। জেলা প্রশাসক আশরাফুর রহমান বিষয়টি পরবর্তী সময়ে মন্তব্য করবেন বলে জানিয়েছেন।

২৮ মার্চ, ২০২৬ ১৪:০৮
বরিশালসহ সারা দেশের কোথাও কোথাও আজ বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এবং আগামী তিন দিন পর্যন্ত দেশের সব বিভাগেই দুয়েক জায়গায় এই বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে এ তথ্য জানিয়েছে।
তাদের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ৩১ মার্চ পর্যন্ত দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বেশ কিছু অঞ্চলে বৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে দিনাজপুরে, ৪১ মিলিমিটার। এছাড়া রংপুরে ৪০ মিলিমিটার, রংপুর বিভাগের ডিমলায় ৩২ মিলিমিটার, রাজারহাটে ২৯ মিলিমিটার, কিশোরগঞ্জের নিকলীতে ১৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এর বাইরে বগুড়া, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, গোপালগঞ্জ এবং খুলনায় সামান্য থেকে হালকা বৃষ্টি হয়েছে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, লঘুচাপের একটি বর্ধিতাংশ বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এর পাশাপাশি মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এর ফলে আগামীকাল বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম এবং সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সম্ভাবনা রয়েছে পরদিনও। তবে ১ এপ্রিলের পর থেকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমে আসতে পারে এবং তাপমাত্রা আবার বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায় ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল তেঁতুলিয়ায়, ১৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
ঢাকায় আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।’

২৭ মার্চ, ২০২৬ ১৭:৪৮
বরিশালের রিফিউজি কলোনি এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন চিহ্নিত মাদক সম্রাট এবং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল মামলার আসামি ‘গাঁজা রফিক’। শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘নাককাটা রুবেল’-এর প্রধান অর্থ জোগানদাতা হিসেবে পরিচিত এই রফিকের বিরুদ্ধে এবার অনুসন্ধানী সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি ও হেনস্তার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সম্প্রতি একটি মামলার বাদী অনুসন্ধানী সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলামকে মুঠোফোনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ প্রাণনাশের হুমকি দেয় রফিক ও তার সহযোগীরা। গত শুক্রবার সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে রফিকের মোবাইল নম্বর থেকে প্রথমে এক নারী এবং পরবর্তীতে রেজা নামে এক ব্যক্তি সাংবাদিক আসলামকে চরম হেনস্তা করেন। রেজা এর আগে নিজেকে ‘আলেকান্দা’র বাসিন্দা পরিচয় দিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টির চেষ্টা চালান।
অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। রফিক কেবল মাদক ব্যবসাই নয়, বরং শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘নাককাটা রুবেল’-এর অবৈধ অস্ত্রের ভাণ্ডারও নিয়ন্ত্রণ করছেন। বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, রুবেলের কাছে থাকা বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্রের একটি বড় অংশ বর্তমানে রফিকের কাছে গচ্ছিত রয়েছে। রফিক নিজেই মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন, যার কল রেকর্ড সংবাদমাধ্যম ‘তালাশ বিডি’-র কাছে সংরক্ষিত আছে।
অত্যন্ত ধূর্ত এই মাদক সম্রাট হোয়াটসঅ্যাপে সাংবাদিক আসলামকে ডিবি পুলিশের ভয় দেখান। এবং নিজেকে ‘রাজা রফিক’ দাবি করে তিনি দম্ভোক্তি করেন যে, ডিবি পুলিশের মাধ্যমে সাংবাদিককে তুলে নিয়ে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেবেন। এছাড়া মামলার বাদীকে বিভিন্ন সময় অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে ম্যানেজ করার ব্যর্থ চেষ্টা করেন তিনি। এমনকি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নিয়েও কুরুচিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
রিফিউজি কলোনি ও সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা এই চক্রটির দাপটে দিশেহারা। সাধারণ মানুষ তাদের ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পায় না। মাদক ও অস্ত্রের এই মরণ নেশা থেকে এলাকাকে বাঁচাতে ভুক্তভোগীরা দ্রুত এই মাদক সম্রাট ও তার সহযোগীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
রফিকের মাদক ব্যবসার স্বীকারোক্তি এবং সাংবাদিককে হুমকির সমস্ত কল রেকর্ড ও ডিজিটাল প্রমাণ বর্তমানে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের হস্তগত রয়েছে, যা আইনি প্রক্রিয়ায় রফিকের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে।’
বরিশাল টাইমস

২৭ মার্চ, ২০২৬ ১৫:৫৫
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
বরিশালসহ সারা দেশের কোথাও কোথাও আজ বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এবং আগামী তিন দিন পর্যন্ত দেশের সব বিভাগেই দুয়েক জায়গায় এই বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে এ তথ্য জানিয়েছে।
তাদের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ৩১ মার্চ পর্যন্ত দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বেশ কিছু অঞ্চলে বৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে দিনাজপুরে, ৪১ মিলিমিটার। এছাড়া রংপুরে ৪০ মিলিমিটার, রংপুর বিভাগের ডিমলায় ৩২ মিলিমিটার, রাজারহাটে ২৯ মিলিমিটার, কিশোরগঞ্জের নিকলীতে ১৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এর বাইরে বগুড়া, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, গোপালগঞ্জ এবং খুলনায় সামান্য থেকে হালকা বৃষ্টি হয়েছে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, লঘুচাপের একটি বর্ধিতাংশ বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এর পাশাপাশি মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এর ফলে আগামীকাল বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম এবং সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সম্ভাবনা রয়েছে পরদিনও। তবে ১ এপ্রিলের পর থেকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমে আসতে পারে এবং তাপমাত্রা আবার বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায় ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল তেঁতুলিয়ায়, ১৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
ঢাকায় আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।’
বরিশালের রিফিউজি কলোনি এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন চিহ্নিত মাদক সম্রাট এবং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল মামলার আসামি ‘গাঁজা রফিক’। শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘নাককাটা রুবেল’-এর প্রধান অর্থ জোগানদাতা হিসেবে পরিচিত এই রফিকের বিরুদ্ধে এবার অনুসন্ধানী সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি ও হেনস্তার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সম্প্রতি একটি মামলার বাদী অনুসন্ধানী সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলামকে মুঠোফোনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ প্রাণনাশের হুমকি দেয় রফিক ও তার সহযোগীরা। গত শুক্রবার সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে রফিকের মোবাইল নম্বর থেকে প্রথমে এক নারী এবং পরবর্তীতে রেজা নামে এক ব্যক্তি সাংবাদিক আসলামকে চরম হেনস্তা করেন। রেজা এর আগে নিজেকে ‘আলেকান্দা’র বাসিন্দা পরিচয় দিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টির চেষ্টা চালান।
অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। রফিক কেবল মাদক ব্যবসাই নয়, বরং শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘নাককাটা রুবেল’-এর অবৈধ অস্ত্রের ভাণ্ডারও নিয়ন্ত্রণ করছেন। বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, রুবেলের কাছে থাকা বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্রের একটি বড় অংশ বর্তমানে রফিকের কাছে গচ্ছিত রয়েছে। রফিক নিজেই মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন, যার কল রেকর্ড সংবাদমাধ্যম ‘তালাশ বিডি’-র কাছে সংরক্ষিত আছে।
অত্যন্ত ধূর্ত এই মাদক সম্রাট হোয়াটসঅ্যাপে সাংবাদিক আসলামকে ডিবি পুলিশের ভয় দেখান। এবং নিজেকে ‘রাজা রফিক’ দাবি করে তিনি দম্ভোক্তি করেন যে, ডিবি পুলিশের মাধ্যমে সাংবাদিককে তুলে নিয়ে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেবেন। এছাড়া মামলার বাদীকে বিভিন্ন সময় অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে ম্যানেজ করার ব্যর্থ চেষ্টা করেন তিনি। এমনকি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নিয়েও কুরুচিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
রিফিউজি কলোনি ও সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা এই চক্রটির দাপটে দিশেহারা। সাধারণ মানুষ তাদের ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পায় না। মাদক ও অস্ত্রের এই মরণ নেশা থেকে এলাকাকে বাঁচাতে ভুক্তভোগীরা দ্রুত এই মাদক সম্রাট ও তার সহযোগীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
রফিকের মাদক ব্যবসার স্বীকারোক্তি এবং সাংবাদিককে হুমকির সমস্ত কল রেকর্ড ও ডিজিটাল প্রমাণ বর্তমানে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের হস্তগত রয়েছে, যা আইনি প্রক্রিয়ায় রফিকের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে।’
বরিশাল টাইমস
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক দুর্গাসাগর দিঘীতে সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সাড়ে ৩০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী পুণ্যস্নান উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। হিন্দুশাস্ত্র মতে চৈত্রের অশোকা অষ্টমী তিথির লগ্ন অনুসারে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দুর্গাসাগর দিঘীতে ওই স্নান উৎসব চলে। এসময় হাজার হাজার মানুষের পদচারণায় দিনভর মুখরিত হয় গোটা এলাকা। স্নান উৎসবকে ঘিরে দিঘীর পাড়ে পূজাপাঠ চক্র এবং পার্শ্ববর্তী চন্দ্রদ্বীপ হাইস্কুল ও কলেজ মাঠে দিনব্যাপী মেলা অনুষ্ঠিত হয়।
সনাতন হিন্দু ধর্মবিশ্বাস মতে প্রতিবছর চৈত্রমাসের অশোকা অষ্টমী তিথিতে নিজের অতীত জীবনের পাপ-পঙ্কিলতা ধুয়েমুছে নতুন পরিশুদ্ধ জীবন লাভের আশায় বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহাসিক দুর্গাসাগর দিঘীতে পুণ্যস্নান করতে আসেন সনাতন ভক্ত ও পুণ্যার্থীরা। এসময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দিনভর প্রায় লাখো মানুষের সমাগম ঘটে এখানে। প্রায় সাড়ে ৩০০ বছর ধরে চলছে এই রেওয়াজ। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। এবার স্নান উৎসবে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ, ডিবি, র্যাব, আনসার, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকের পাশাপাশি শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করেছে সেনাবাহিনী। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় খুশি স্নানে আসা ভক্তরা।
গোপালগঞ্জ থেকে আসা সীমা রাণী দাস বলেন, প্রতিবছরই এই দুর্গাসাগর দিঘীতে আমার পরিবারের সবাইকে নিয়ে স্নান করতে আসি। মনের মধ্যে কিছুটা ভয় এবং অজানা আশঙ্কা কাজ করলেও এখানে আসার পরে সেটা দূর হয়েছে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যথেষ্ট সদস্য উপস্থিত দেখে আমাদের ভয় কেটে গেছে। এছাড়া এবারের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ভালো ছিল। অভিন্ন অনুভূতি প্রকাশ করেছেন বরগুনা থেকে আসা সনাতন ভক্ত অশোক কুমার বিশ্বাস।
স্নান ও মেলা প্রসঙ্গে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক সুলতান আহমেদ খান বলেন, 'দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে দুর্গাসাগরে স্নানে আসা হিন্দু ভাইবোনদের খোঁজখবর নিয়েছি। তাদের সাথে কথা বলেছি। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এবার তারা যথেষ্ট খুশি। অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা এবং শৃঙ্খলা রক্ষায় বিএনপির পক্ষ থেকে আমরা এবং আমাদের দলীয় স্বেচ্ছাসেবকরা আয়োজকদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছে। ধর্ম যার যার, উৎসব সবার, এই নীতিতে সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়তে চাই আমরা।'
স্নান উৎসবসহ মেলার আয়োজক কমিটির সভাপতি এবং প্রাচীন চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যের শেষ রাজা সতীন্দ্র নারায়ণ রায়ের ছেলে রাজা দিলীপ কুমার রায় বলেন, 'বরিশাল ছিল প্রাচীন চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। এর রাজধানী ছিল বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশায়। আমার পূর্বপুরুষ চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যের পঞ্চদশ রাজা শিব নারায়ণ রায় ১৭৮০ সালে এই বিশালাকৃতির দিঘীটি খনন করেন। চৈত্রের খরা মৌসুমে রাজ্যের বিভিন্ন জলাশয় শুকিয়ে গেলে প্রজাদের পানির অভাব দূর করতে তার স্ত্রী রাণী দুর্গামতি একটি বড় দিঘী খননের পরামর্শ দেন। এই প্রস্তাব রাজার পছন্দ হলে রাণী দুর্গামতি যতদূর হেঁটে যেতে পারবেন ততদূর এলাকা নিয়ে একটি দিঘী খনন করার নির্দেশ দেন রাজা। এ কারণে রাণীর নামানুসারে প্রায় অর্ধশত একর জায়গা জুড়ে খননকৃত এই বিশালাকৃতির দিঘীর নামকরণ হয় দুর্গাসাগর দিঘি। এরপর থেকে এই ঐতিহাসিক দিঘীতেই অশোকা অষ্টমীর পূজা এবং সনাতন ধর্মীয় পুণ্যস্নান রীতি পালন হয়ে আসছে।'
রাজা দিলীপ কুমার রায় আরও বলেন, 'দুর্গাসাগরের স্নান উৎসবকে কেন্দ্র করে এবারও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যেহেতু সারাদিনে এখানে লাখের বেশি লোকের সমাগম হয় সেহেতু তাদের নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি কমিটিতে স্থানীয় কয়েকশো স্বেচ্ছাসেবক রাখা হয়েছে। এছাড়াও স্নানের পরে মহিলাদের কাপড় পাল্টানোর জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রায় সাড়ে ৩০০ বছর ধরে এই পুণ্যস্নান উৎসবে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায় আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করে আসছে। দলমত ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সনাতনী এই ধর্মীয় উৎসবকে সফল করার জন্য আমরা সবার কাছে কৃতজ্ঞ।' #
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক দুর্গাসাগর দিঘীতে সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সাড়ে ৩০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী পুণ্যস্নান উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। হিন্দুশাস্ত্র মতে চৈত্রের অশোকা অষ্টমী তিথির লগ্ন অনুসারে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দুর্গাসাগর দিঘীতে ওই স্নান উৎসব চলে। এসময় হাজার হাজার মানুষের পদচারণায় দিনভর মুখরিত হয় গোটা এলাকা। স্নান উৎসবকে ঘিরে দিঘীর পাড়ে পূজাপাঠ চক্র এবং পার্শ্ববর্তী চন্দ্রদ্বীপ হাইস্কুল ও কলেজ মাঠে দিনব্যাপী মেলা অনুষ্ঠিত হয়।
সনাতন হিন্দু ধর্মবিশ্বাস মতে প্রতিবছর চৈত্রমাসের অশোকা অষ্টমী তিথিতে নিজের অতীত জীবনের পাপ-পঙ্কিলতা ধুয়েমুছে নতুন পরিশুদ্ধ জীবন লাভের আশায় বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহাসিক দুর্গাসাগর দিঘীতে পুণ্যস্নান করতে আসেন সনাতন ভক্ত ও পুণ্যার্থীরা। এসময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দিনভর প্রায় লাখো মানুষের সমাগম ঘটে এখানে। প্রায় সাড়ে ৩০০ বছর ধরে চলছে এই রেওয়াজ। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। এবার স্নান উৎসবে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ, ডিবি, র্যাব, আনসার, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকের পাশাপাশি শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করেছে সেনাবাহিনী। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় খুশি স্নানে আসা ভক্তরা।
গোপালগঞ্জ থেকে আসা সীমা রাণী দাস বলেন, প্রতিবছরই এই দুর্গাসাগর দিঘীতে আমার পরিবারের সবাইকে নিয়ে স্নান করতে আসি। মনের মধ্যে কিছুটা ভয় এবং অজানা আশঙ্কা কাজ করলেও এখানে আসার পরে সেটা দূর হয়েছে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যথেষ্ট সদস্য উপস্থিত দেখে আমাদের ভয় কেটে গেছে। এছাড়া এবারের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ভালো ছিল। অভিন্ন অনুভূতি প্রকাশ করেছেন বরগুনা থেকে আসা সনাতন ভক্ত অশোক কুমার বিশ্বাস।
স্নান ও মেলা প্রসঙ্গে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক সুলতান আহমেদ খান বলেন, 'দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে দুর্গাসাগরে স্নানে আসা হিন্দু ভাইবোনদের খোঁজখবর নিয়েছি। তাদের সাথে কথা বলেছি। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এবার তারা যথেষ্ট খুশি। অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা এবং শৃঙ্খলা রক্ষায় বিএনপির পক্ষ থেকে আমরা এবং আমাদের দলীয় স্বেচ্ছাসেবকরা আয়োজকদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছে। ধর্ম যার যার, উৎসব সবার, এই নীতিতে সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়তে চাই আমরা।'
স্নান উৎসবসহ মেলার আয়োজক কমিটির সভাপতি এবং প্রাচীন চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যের শেষ রাজা সতীন্দ্র নারায়ণ রায়ের ছেলে রাজা দিলীপ কুমার রায় বলেন, 'বরিশাল ছিল প্রাচীন চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। এর রাজধানী ছিল বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশায়। আমার পূর্বপুরুষ চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যের পঞ্চদশ রাজা শিব নারায়ণ রায় ১৭৮০ সালে এই বিশালাকৃতির দিঘীটি খনন করেন। চৈত্রের খরা মৌসুমে রাজ্যের বিভিন্ন জলাশয় শুকিয়ে গেলে প্রজাদের পানির অভাব দূর করতে তার স্ত্রী রাণী দুর্গামতি একটি বড় দিঘী খননের পরামর্শ দেন। এই প্রস্তাব রাজার পছন্দ হলে রাণী দুর্গামতি যতদূর হেঁটে যেতে পারবেন ততদূর এলাকা নিয়ে একটি দিঘী খনন করার নির্দেশ দেন রাজা। এ কারণে রাণীর নামানুসারে প্রায় অর্ধশত একর জায়গা জুড়ে খননকৃত এই বিশালাকৃতির দিঘীর নামকরণ হয় দুর্গাসাগর দিঘি। এরপর থেকে এই ঐতিহাসিক দিঘীতেই অশোকা অষ্টমীর পূজা এবং সনাতন ধর্মীয় পুণ্যস্নান রীতি পালন হয়ে আসছে।'
রাজা দিলীপ কুমার রায় আরও বলেন, 'দুর্গাসাগরের স্নান উৎসবকে কেন্দ্র করে এবারও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যেহেতু সারাদিনে এখানে লাখের বেশি লোকের সমাগম হয় সেহেতু তাদের নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি কমিটিতে স্থানীয় কয়েকশো স্বেচ্ছাসেবক রাখা হয়েছে। এছাড়াও স্নানের পরে মহিলাদের কাপড় পাল্টানোর জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রায় সাড়ে ৩০০ বছর ধরে এই পুণ্যস্নান উৎসবে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায় আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করে আসছে। দলমত ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সনাতনী এই ধর্মীয় উৎসবকে সফল করার জন্য আমরা সবার কাছে কৃতজ্ঞ।' #