ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। দলটি এককভাবে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। আগামী মঙ্গলবার সকালে সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)। একই দিনে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হতে পারে বলে জানা গেছে।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসন থেকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন এবং তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন, এটা প্রায় নিশ্চিত। বিএনপি নেতারা বলছেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন ভোরের অপেক্ষায় বাংলাদেশ। ১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফেরা তারেক রহমান এবার একটি ‘স্মার্ট ও জবাবদিহিমূলক’ সরকার গঠন করতে চান। তার মন্ত্রিসভায় নতুন মুখের পাশাপাশি পুরোনো মুখও স্থান পাবে, যা হবে ইনক্লুসিভ এবং ইউনিক।
বিশ্লেষকদের মতে, চব্বিশোত্তর নতুন বাংলাদেশে তরুণ প্রজন্মের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে দেশ পরিচালনা করতে হবে। সে জায়গা থেকে তারেক রহমান এবারের মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ প্রবীণ নেতাদের পাশাপাশি রাজপথের ত্যাগী এবং দক্ষ তরুণদের সংমিশ্রণ দেখা যেতে পারে। আর এটি হলে তারেক রহমানের জন্য সরকার ও দেশ পরিচালনা অত্যন্ত সহজ হবে। বর্তমানে সরকারের মন্ত্রণালয়-বিভাগ রয়েছে ৫৮টি।
তবে মন্ত্রীসভার আকার ছোট হবে। সদস্য সংখ্যা ৩০ জনের বেশি হবে না। এদিকে নতুন সরকারে কারা মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী হচ্ছেন—তা নিয়ে জনমনে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে।
বিএনপির হাইকমান্ড চায় নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করতে। পাশাপাশি সংসদ সদস্য নন, কিন্তু মেধাবী, অভিজ্ঞ এবং দেশ-বিদেশে নিজ নিজ পেশায় প্রতিষ্ঠিত—এমন বেশ কিছু নেতাকে টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী করা হতে পারে। তবে মন্ত্রিসভার আকার কেমন হবে, তা এখনই নির্দিষ্টভাবে কেউ বলতে পারছেন না। এ নিয়ে এরই মধ্যে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা শুরু করেছেন। তবে কে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন, জানা যাবে তা শপথের পর।
বিএনপির বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পরদিন শুক্রবার সন্ধ্যার পর সিনিয়র নেতারা দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে তার গুলশান কার্যালয়ে দেখা করেন এবং ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন দলের চেয়ারম্যান। বৈঠকে তারেক রহমান সিনিয়র নেতাদের পরামর্শ নেন। বিশেষ করে মন্ত্রিসভায় কারা থাকতে পারেন, তা নিয়ে পরামর্শ করেন তিনি। এ ছাড়া সংসদ সদস্যদের শপথ, মন্ত্রিসভা গঠনসহ নির্বাচনের সার্বিক বিষয় নিয়ে ওই বৈঠকে আলোচনা হয়।
এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল বলেন, ‘নতুন মন্ত্রিসভা নিয়ে আমরা আলোচনা করছি। এবারের মন্ত্রিসভা কেমন হবে, তা এখনই নির্দিষ্টভাবে বলা কঠিন। তবে ভালো কিছু হবে, ইনশাআল্লাহ। এজন্য অপেক্ষা করতে হবে।’
মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য মুখ যারা: নতুন মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের জন্য আলোচনায় আছেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনে নির্বাচিত বিএনপি মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে তাকে রাষ্ট্রপতি করার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় পেতে পারেন কুমিল্লা-১ আসনে নির্বাচিত স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ঢাকা-৩ আসনে নির্বাচিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, সিরাজগঞ্জ-২ আসনে নির্বাচিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, নরসিংদী-২ আসনে নির্বাচিত স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, চট্টগ্রাম-১১ আসনে নির্বাচিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, কক্সবাজার-১ আসনে নির্বাচিত স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, দিনাজপুর-৬ আসনে নির্বাচিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, কুমিল্লা-৩ আসন থেকে নির্বাচিত দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।
সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার তালিকায় আরও আছেন কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে নির্বাচিত বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী ড. ওসমান ফারুক, লালমনিরহাট-৩ আসনে নির্বাচিত রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু, নেত্রকোনা-৪ আসনে নির্বাচিত বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, নেত্রকোনা-১ আসনে নির্বাচিত বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, জামালপুর-১ আসনে নির্বাচিত বিএনপির কোষাধ্যক্ষ রশিদ্দুজ্জামান মিল্লাত, শরীয়তপুর-৩ আসনে নির্বাচিত বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাবেক এপিএস মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, খুলনা-৩ আসনে নির্বাচিত বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল, খুলনা-৫ আসনে নির্বাচিত বিএনপি নেতা ও ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক সভাপতি আলী আজগর লবি, যশোর-৩ আসনে নির্বাচিত বিএনপির খুলনা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ঝিনাইদহ-১ আসনে নির্বাচিত বিএনপির কেন্দ্রীয় মানবাধিকার সম্পাদক ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান।
ফেনী-৩ আসনে নির্বাচিত বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল আউয়াল মিন্টু, নোয়াখালী-৪ আসনে নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, নোয়াখালী-৩ আসনে নির্বাচিত দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী বরকত উল্লাহ বুলু, নোয়াখালী-১ আসনে নির্বাচিত বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে নির্বাচিত বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, নরসিংদী-১ আসনে নির্বাচিত বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবীর খোকন, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে নির্বাচিত বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, ঢাকা-১ আসনে নির্বাচিত ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক, মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে নির্বাচিত বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ।
মানিকগঞ্জ-৩ আসনে নির্বাচিত দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আফরোজা খানম রিতা, পাবনা-৫ আসনে বিএনপির চেয়ারপারসন মরহুমা খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, টাঙ্গাইল-২ আসনে নির্বাচিত বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম পিন্টু ও টাঙ্গাইল-৫ আসনে নির্বাচিত বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মাগুরা-১ আসনে নির্বাচিত জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মনোয়ার হোসেন, ফরিদপুর-২ আসনে নির্বাচিত বিএনপির ফরিদপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, গাজীপুর-২ আসন থেকে নির্বাচিত সাবেক মেয়র আব্দুল মান্নানের ছেলে মঞ্জুরুল করিম রনি, পঞ্চগড়-১ আসনে নির্বাচিত ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, ঠাকুরগাঁও-২ আসনে নির্বাচিত ড্যাবের সাবেক মহাসচিব ডা. মো. আব্দুস সালাম, নাটোর-২ আসনে নির্বাচিত বিএনপি নেতা ও সাবেক উপমন্ত্রী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, রাজশাহী-২ আসনে নির্বাচিত বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, বগুড়া-৫ আসনে নির্বাচিত বিএনপি নেতা জি এম সিরাজ, হবিগঞ্জ-১ আসনে নির্বাচিত ড. রেজা কিবরিয়া, সিলেট-৪ আসনে নির্বাচিত ও সিলেট সিটির সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, মৌলভীবাজার-৩ আসনে নির্বাচিত সাবেক অর্থমন্ত্রী মরহুম এম সাইফুর রহমানের ছেলে নাসের রহমান, সিলেট-৩ আসনে নির্বাচিত ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ মালেক।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে নির্বাচিত বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের শরিক ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকী, ভোলা-৩ আসনে নির্বাচিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ, বরগুনা-২ আসনে নির্বাচিত বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনি, বরিশাল-১ আসনে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন, ভোলা-১ আসনে বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের শরিক বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ এবং পটুয়াখালী-৩ আসনে নির্বাচিত বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের শরিক গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর।
টেকনোক্র্যাট: বিএনপির মন্ত্রিসভায় টেকনোক্র্যাট হিসেবে অন্তত ছয়জনের নাম জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছে। তারা হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব (আন্তর্জাতিক) হুমায়ুন কবির, বিএনপি চেয়ারম্যানের অন্যতম উপদেষ্টা ও দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন, বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও আমেরিকা-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান গিয়াস আহমেদ এবং বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকার।
জাতীয় সংসদে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি বা সংসদ সদস্য না হয়ে যারা মন্ত্রিসভায় স্থান পান বা মন্ত্রী হন, তাদের বলা হয় টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী। এ বিষয়ে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫৬-এর ২ ধারায় বলা রয়েছে, ‘প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের রাষ্ট্রপতি নিয়োগদান করবেন। তবে শর্ত থাকে যে, তাহাদের সংখ্যার অন্যূন নয়-দশমাংশ সংসদ সদস্যদের মধ্য হতে নিযুক্ত হবেন এবং অনধিক এক-দশমাংশ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের মধ্য থেকে মনোনীত হতে পারবেন।’ মন্ত্রিসভা ৪০ জনের হলে সে হিসাবে টেকনোক্র্যাট কোটায় চারজনকে মন্ত্রী করা যাবে।
জানতে চাইলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শামছুল আলম সেলিম বলেন, ‘দীর্ঘ আন্দোলনের পর একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে। এটি চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ফসল, তাই বিএনপির মন্ত্রিসভায় চমক থাকাটা স্বাভাবিক। মন্ত্রিসভায় যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের রাখা না রাখার বিষয়টিও আলোচনা হচ্ছে। তবে নির্বাচনের প্রাথমিক ফল অনুযায়ী বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় নিজেদের দলের সংহতি বজায় রাখাই হবে তারেক রহমানের প্রথম চ্যালেঞ্জ। যারা শাসন নয়, মানুষের সেবক হিসেবে কাজ করবেন—এমন কাউকে নিয়ে বিএনপিকে মন্ত্রিসভা গঠন করতে হবে।'
২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:০০
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপার বিষয়ে আগামী ৫ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তাদের বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন।
এর আগে, গত ১৭ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ২৪ আগস্ট তাদের আদালতে হাজির করা হলে ট্রাইব্যুনাল তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু শাপলা চত্বর-সংক্রান্ত হত্যা মামলায় ট্রাইব্যুনালের আদেশে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। অন্যদিকে, সাংবাদিক শ্যামল দত্ত জুলাই আন্দোলন-সংক্রান্ত একটি মামলায় নিম্ন আদালতের আদেশে কারাগারে রয়েছেন।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপার বিষয়ে আগামী ৫ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তাদের বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন।
এর আগে, গত ১৭ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ২৪ আগস্ট তাদের আদালতে হাজির করা হলে ট্রাইব্যুনাল তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু শাপলা চত্বর-সংক্রান্ত হত্যা মামলায় ট্রাইব্যুনালের আদেশে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। অন্যদিকে, সাংবাদিক শ্যামল দত্ত জুলাই আন্দোলন-সংক্রান্ত একটি মামলায় নিম্ন আদালতের আদেশে কারাগারে রয়েছেন।

২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৫৩
মাদরাসায় বলাৎকার ও অশালীন কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। মাদরাসার মতো পবিত্র প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের গর্হিত কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনে যোগ দেন ধর্মমন্ত্রী। সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, মাদরাসার মতো পবিত্র স্থানে যাতে এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা আর না ঘটে, সে বিষয়ে ইমামদের সচেতনতামূলক বক্তব্য দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
এর আগে সম্মেলনে সারা দেশ থেকে আসা ইমামদের উদ্দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। কেউ যেন উসকানি দিয়ে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার পরামর্শ দেন ধর্মমন্ত্রী।
জুমার খুতবায় মাদক, সন্ত্রাসসহ সব ধরনের সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে জোরালো বক্তব্য তুলে ধরার জন্য ইমামদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। ধর্মমন্ত্রীর মতে, সমাজে ইমামদের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। এই গ্রহণযোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে অপরাধ প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন তারা।
এদিকে সম্মেলনে ইমাম সমিতির নেতারা বেতন-ভাতা বৃদ্ধি এবং নিজেদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন।
মাদরাসায় বলাৎকার ও অশালীন কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। মাদরাসার মতো পবিত্র প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের গর্হিত কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনে যোগ দেন ধর্মমন্ত্রী। সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, মাদরাসার মতো পবিত্র স্থানে যাতে এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা আর না ঘটে, সে বিষয়ে ইমামদের সচেতনতামূলক বক্তব্য দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
এর আগে সম্মেলনে সারা দেশ থেকে আসা ইমামদের উদ্দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। কেউ যেন উসকানি দিয়ে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার পরামর্শ দেন ধর্মমন্ত্রী।
জুমার খুতবায় মাদক, সন্ত্রাসসহ সব ধরনের সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে জোরালো বক্তব্য তুলে ধরার জন্য ইমামদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। ধর্মমন্ত্রীর মতে, সমাজে ইমামদের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। এই গ্রহণযোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে অপরাধ প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন তারা।
এদিকে সম্মেলনে ইমাম সমিতির নেতারা বেতন-ভাতা বৃদ্ধি এবং নিজেদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন।

১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:২৪
অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। আজ শনিবার বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ওই অভিযানের একটি ভিডিও আপলোড করেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে পরে সামাজিকমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, নিজের নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-৬ আসনের গেন্ডারিয়া থানার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের রেললাইন-সংলগ্ন বস্তিতে আকস্মিক অভিযানে যান প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। এ সময় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে গাড়ি থেকে নেমে চিৎকার করে বলেন, ‘এই ধর ধর ধর...।’ পাশ থেকে আরেকজনকে বলতে শোনা যায়, ‘একেবারে গুলি করে দেব।’ প্রতিমন্ত্রীর দেহরক্ষীরা তখন দৌঁড়ে কয়েকজনকে ধরার চেষ্টা করেন। একজনকে লাথি মারেন এক দেহরক্ষী।
গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মনির সমকালকে জানান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন ছয়জনকে আটক করে থানায় ফোন দেন। পরে পুলিশ সদস্যরা গিয়ে তাদের নিয়ে আসে। ওসি আরও বলেন, আটক ব্যক্তিদের কাছে সাদা পাউডারজাতীয় পদার্থ পাওয়া গেছে। সেগুলো হেরোইন কিনা, তা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
প্রদর্শিত পিস্তলটির লাইসেন্স আছে কীনা জানতে চাইলে ইশরাক হোসেনের এপিএস আরিফুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ‘পিস্তল নয়, তিনি লাঠি নিয়ে অভিযানে গেছেন।’
অস্ত্রহাতে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে সামাজিকমাধ্যমে আলোচনা চলছে। লাইসেন্স থাকলেও নিজের অস্ত্র এভাবে প্রদর্শন করা যায় কিনা সেই প্রশ্ন তোলেন কেউ কেউ। আইনজ্ঞরা বলছেন, একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী নির্বাহী বিভাগের প্রধান বা নীতিনির্ধারক। মাঠপর্যায়ে তাদের সরাসরি অভিযান পরিচালনা বা আইন হাতে তুলে নেওয়ার বিশেষ ক্ষমতা সংবিধান বা ফৌজদারি কার্যবিধিতে নেই। তাছাড়া, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা অনুযায়ী বৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে কাউকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রদর্শনীবাজি বা হয়রানি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
উচ্চ আদালতের আইনজীবী তাওহীদুল ইসলাম সমকালকে বলেন, আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা-২০২৫’-এর ২৫ (ক) ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি নিজের লাইসেন্সের বিপরীতে নেওয়া অস্ত্র শুধু আত্মরক্ষার জন্য বহন ও ব্যবহার করতে পারবেন। অন্যের ভীতি বা বিরক্তি তৈরি হতে পারে এমন ক্ষেত্রে অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না। ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ২১ ধারা অনুযায়ী, লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গের অপরাধে অনূর্ধ্ব ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড, বা অনূর্ধ্ব ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মুহাম্মদ নুরুল হুদা সমকালকে বলেন, আইন অনুযায়ী মূলত আত্মরক্ষার প্রয়োজনে বৈধ অস্ত্র প্রদর্শন করা যেতে পারে। কোনো অভিযানে গিয়ে একজন প্রতিমন্ত্রীর অস্ত্র প্রদর্শন না করাই ভালো। কারণ, তার নিরাপত্তার জন্য তো পুলিশ থাকার কথা। সেক্ষেত্রে নিজের অস্ত্র প্রদর্শনের প্রয়োজনীয়তা দেখি না।
এসব বিষয়ে জানার জন্য প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে ফোন করা হয়, হোয়াটসআপে ম্যাসেজ পাঠানো হয়, তবে তাতে তিনি সাড়া দেননি।
নিজের ফেসবুক পেজে আপলোড করা ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযান শেষে ইশরাক বলেন- ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত রাখা হবে। মাদক কারবারিরা যে দলেরই হোক, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকি তার নিজ দলের কেউ মাদক কারবারে জড়িত থাকলে তার শাস্তি আরও বড় হবে।
এলাকাবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, এলাকায় যারা মাদক বিক্রি করে, তাদের স্থান আমার এই ঢাকা-৬ আসনে নেই। আমার এই এলাকা থেকে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হয়েছে। সারা বাংলাদেশে অভিযান চলবে, দেশের কোথাও মাদকের জায়গা হবে না।
আসনটি মাদকমুক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি এলাকাবাসীর সহযোগিতা চান প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। আজ শনিবার বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ওই অভিযানের একটি ভিডিও আপলোড করেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে পরে সামাজিকমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, নিজের নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-৬ আসনের গেন্ডারিয়া থানার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের রেললাইন-সংলগ্ন বস্তিতে আকস্মিক অভিযানে যান প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। এ সময় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে গাড়ি থেকে নেমে চিৎকার করে বলেন, ‘এই ধর ধর ধর...।’ পাশ থেকে আরেকজনকে বলতে শোনা যায়, ‘একেবারে গুলি করে দেব।’ প্রতিমন্ত্রীর দেহরক্ষীরা তখন দৌঁড়ে কয়েকজনকে ধরার চেষ্টা করেন। একজনকে লাথি মারেন এক দেহরক্ষী।
গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মনির সমকালকে জানান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন ছয়জনকে আটক করে থানায় ফোন দেন। পরে পুলিশ সদস্যরা গিয়ে তাদের নিয়ে আসে। ওসি আরও বলেন, আটক ব্যক্তিদের কাছে সাদা পাউডারজাতীয় পদার্থ পাওয়া গেছে। সেগুলো হেরোইন কিনা, তা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
প্রদর্শিত পিস্তলটির লাইসেন্স আছে কীনা জানতে চাইলে ইশরাক হোসেনের এপিএস আরিফুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ‘পিস্তল নয়, তিনি লাঠি নিয়ে অভিযানে গেছেন।’
অস্ত্রহাতে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে সামাজিকমাধ্যমে আলোচনা চলছে। লাইসেন্স থাকলেও নিজের অস্ত্র এভাবে প্রদর্শন করা যায় কিনা সেই প্রশ্ন তোলেন কেউ কেউ। আইনজ্ঞরা বলছেন, একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী নির্বাহী বিভাগের প্রধান বা নীতিনির্ধারক। মাঠপর্যায়ে তাদের সরাসরি অভিযান পরিচালনা বা আইন হাতে তুলে নেওয়ার বিশেষ ক্ষমতা সংবিধান বা ফৌজদারি কার্যবিধিতে নেই। তাছাড়া, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা অনুযায়ী বৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে কাউকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রদর্শনীবাজি বা হয়রানি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
উচ্চ আদালতের আইনজীবী তাওহীদুল ইসলাম সমকালকে বলেন, আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা-২০২৫’-এর ২৫ (ক) ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি নিজের লাইসেন্সের বিপরীতে নেওয়া অস্ত্র শুধু আত্মরক্ষার জন্য বহন ও ব্যবহার করতে পারবেন। অন্যের ভীতি বা বিরক্তি তৈরি হতে পারে এমন ক্ষেত্রে অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না। ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ২১ ধারা অনুযায়ী, লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গের অপরাধে অনূর্ধ্ব ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড, বা অনূর্ধ্ব ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মুহাম্মদ নুরুল হুদা সমকালকে বলেন, আইন অনুযায়ী মূলত আত্মরক্ষার প্রয়োজনে বৈধ অস্ত্র প্রদর্শন করা যেতে পারে। কোনো অভিযানে গিয়ে একজন প্রতিমন্ত্রীর অস্ত্র প্রদর্শন না করাই ভালো। কারণ, তার নিরাপত্তার জন্য তো পুলিশ থাকার কথা। সেক্ষেত্রে নিজের অস্ত্র প্রদর্শনের প্রয়োজনীয়তা দেখি না।
এসব বিষয়ে জানার জন্য প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে ফোন করা হয়, হোয়াটসআপে ম্যাসেজ পাঠানো হয়, তবে তাতে তিনি সাড়া দেননি।
নিজের ফেসবুক পেজে আপলোড করা ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযান শেষে ইশরাক বলেন- ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত রাখা হবে। মাদক কারবারিরা যে দলেরই হোক, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকি তার নিজ দলের কেউ মাদক কারবারে জড়িত থাকলে তার শাস্তি আরও বড় হবে।
এলাকাবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, এলাকায় যারা মাদক বিক্রি করে, তাদের স্থান আমার এই ঢাকা-৬ আসনে নেই। আমার এই এলাকা থেকে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হয়েছে। সারা বাংলাদেশে অভিযান চলবে, দেশের কোথাও মাদকের জায়গা হবে না।
আসনটি মাদকমুক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি এলাকাবাসীর সহযোগিতা চান প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১১:৪০
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। দলটি এককভাবে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। আগামী মঙ্গলবার সকালে সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)। একই দিনে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হতে পারে বলে জানা গেছে।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসন থেকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন এবং তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন, এটা প্রায় নিশ্চিত। বিএনপি নেতারা বলছেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন ভোরের অপেক্ষায় বাংলাদেশ। ১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফেরা তারেক রহমান এবার একটি ‘স্মার্ট ও জবাবদিহিমূলক’ সরকার গঠন করতে চান। তার মন্ত্রিসভায় নতুন মুখের পাশাপাশি পুরোনো মুখও স্থান পাবে, যা হবে ইনক্লুসিভ এবং ইউনিক।
বিশ্লেষকদের মতে, চব্বিশোত্তর নতুন বাংলাদেশে তরুণ প্রজন্মের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে দেশ পরিচালনা করতে হবে। সে জায়গা থেকে তারেক রহমান এবারের মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ প্রবীণ নেতাদের পাশাপাশি রাজপথের ত্যাগী এবং দক্ষ তরুণদের সংমিশ্রণ দেখা যেতে পারে। আর এটি হলে তারেক রহমানের জন্য সরকার ও দেশ পরিচালনা অত্যন্ত সহজ হবে। বর্তমানে সরকারের মন্ত্রণালয়-বিভাগ রয়েছে ৫৮টি।
তবে মন্ত্রীসভার আকার ছোট হবে। সদস্য সংখ্যা ৩০ জনের বেশি হবে না। এদিকে নতুন সরকারে কারা মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী হচ্ছেন—তা নিয়ে জনমনে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে।
বিএনপির হাইকমান্ড চায় নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করতে। পাশাপাশি সংসদ সদস্য নন, কিন্তু মেধাবী, অভিজ্ঞ এবং দেশ-বিদেশে নিজ নিজ পেশায় প্রতিষ্ঠিত—এমন বেশ কিছু নেতাকে টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী করা হতে পারে। তবে মন্ত্রিসভার আকার কেমন হবে, তা এখনই নির্দিষ্টভাবে কেউ বলতে পারছেন না। এ নিয়ে এরই মধ্যে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা শুরু করেছেন। তবে কে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন, জানা যাবে তা শপথের পর।
বিএনপির বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পরদিন শুক্রবার সন্ধ্যার পর সিনিয়র নেতারা দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে তার গুলশান কার্যালয়ে দেখা করেন এবং ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন দলের চেয়ারম্যান। বৈঠকে তারেক রহমান সিনিয়র নেতাদের পরামর্শ নেন। বিশেষ করে মন্ত্রিসভায় কারা থাকতে পারেন, তা নিয়ে পরামর্শ করেন তিনি। এ ছাড়া সংসদ সদস্যদের শপথ, মন্ত্রিসভা গঠনসহ নির্বাচনের সার্বিক বিষয় নিয়ে ওই বৈঠকে আলোচনা হয়।
এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল বলেন, ‘নতুন মন্ত্রিসভা নিয়ে আমরা আলোচনা করছি। এবারের মন্ত্রিসভা কেমন হবে, তা এখনই নির্দিষ্টভাবে বলা কঠিন। তবে ভালো কিছু হবে, ইনশাআল্লাহ। এজন্য অপেক্ষা করতে হবে।’
মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য মুখ যারা: নতুন মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের জন্য আলোচনায় আছেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনে নির্বাচিত বিএনপি মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে তাকে রাষ্ট্রপতি করার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় পেতে পারেন কুমিল্লা-১ আসনে নির্বাচিত স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ঢাকা-৩ আসনে নির্বাচিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, সিরাজগঞ্জ-২ আসনে নির্বাচিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, নরসিংদী-২ আসনে নির্বাচিত স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, চট্টগ্রাম-১১ আসনে নির্বাচিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, কক্সবাজার-১ আসনে নির্বাচিত স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, দিনাজপুর-৬ আসনে নির্বাচিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, কুমিল্লা-৩ আসন থেকে নির্বাচিত দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।
সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার তালিকায় আরও আছেন কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে নির্বাচিত বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী ড. ওসমান ফারুক, লালমনিরহাট-৩ আসনে নির্বাচিত রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু, নেত্রকোনা-৪ আসনে নির্বাচিত বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, নেত্রকোনা-১ আসনে নির্বাচিত বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, জামালপুর-১ আসনে নির্বাচিত বিএনপির কোষাধ্যক্ষ রশিদ্দুজ্জামান মিল্লাত, শরীয়তপুর-৩ আসনে নির্বাচিত বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাবেক এপিএস মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, খুলনা-৩ আসনে নির্বাচিত বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল, খুলনা-৫ আসনে নির্বাচিত বিএনপি নেতা ও ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক সভাপতি আলী আজগর লবি, যশোর-৩ আসনে নির্বাচিত বিএনপির খুলনা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ঝিনাইদহ-১ আসনে নির্বাচিত বিএনপির কেন্দ্রীয় মানবাধিকার সম্পাদক ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান।
ফেনী-৩ আসনে নির্বাচিত বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল আউয়াল মিন্টু, নোয়াখালী-৪ আসনে নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, নোয়াখালী-৩ আসনে নির্বাচিত দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী বরকত উল্লাহ বুলু, নোয়াখালী-১ আসনে নির্বাচিত বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে নির্বাচিত বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, নরসিংদী-১ আসনে নির্বাচিত বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবীর খোকন, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে নির্বাচিত বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, ঢাকা-১ আসনে নির্বাচিত ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক, মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে নির্বাচিত বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ।
মানিকগঞ্জ-৩ আসনে নির্বাচিত দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আফরোজা খানম রিতা, পাবনা-৫ আসনে বিএনপির চেয়ারপারসন মরহুমা খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, টাঙ্গাইল-২ আসনে নির্বাচিত বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম পিন্টু ও টাঙ্গাইল-৫ আসনে নির্বাচিত বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মাগুরা-১ আসনে নির্বাচিত জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মনোয়ার হোসেন, ফরিদপুর-২ আসনে নির্বাচিত বিএনপির ফরিদপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, গাজীপুর-২ আসন থেকে নির্বাচিত সাবেক মেয়র আব্দুল মান্নানের ছেলে মঞ্জুরুল করিম রনি, পঞ্চগড়-১ আসনে নির্বাচিত ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, ঠাকুরগাঁও-২ আসনে নির্বাচিত ড্যাবের সাবেক মহাসচিব ডা. মো. আব্দুস সালাম, নাটোর-২ আসনে নির্বাচিত বিএনপি নেতা ও সাবেক উপমন্ত্রী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, রাজশাহী-২ আসনে নির্বাচিত বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, বগুড়া-৫ আসনে নির্বাচিত বিএনপি নেতা জি এম সিরাজ, হবিগঞ্জ-১ আসনে নির্বাচিত ড. রেজা কিবরিয়া, সিলেট-৪ আসনে নির্বাচিত ও সিলেট সিটির সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, মৌলভীবাজার-৩ আসনে নির্বাচিত সাবেক অর্থমন্ত্রী মরহুম এম সাইফুর রহমানের ছেলে নাসের রহমান, সিলেট-৩ আসনে নির্বাচিত ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ মালেক।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে নির্বাচিত বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের শরিক ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকী, ভোলা-৩ আসনে নির্বাচিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ, বরগুনা-২ আসনে নির্বাচিত বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনি, বরিশাল-১ আসনে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন, ভোলা-১ আসনে বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের শরিক বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ এবং পটুয়াখালী-৩ আসনে নির্বাচিত বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের শরিক গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর।
টেকনোক্র্যাট: বিএনপির মন্ত্রিসভায় টেকনোক্র্যাট হিসেবে অন্তত ছয়জনের নাম জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছে। তারা হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব (আন্তর্জাতিক) হুমায়ুন কবির, বিএনপি চেয়ারম্যানের অন্যতম উপদেষ্টা ও দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন, বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও আমেরিকা-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান গিয়াস আহমেদ এবং বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকার।
জাতীয় সংসদে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি বা সংসদ সদস্য না হয়ে যারা মন্ত্রিসভায় স্থান পান বা মন্ত্রী হন, তাদের বলা হয় টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী। এ বিষয়ে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫৬-এর ২ ধারায় বলা রয়েছে, ‘প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের রাষ্ট্রপতি নিয়োগদান করবেন। তবে শর্ত থাকে যে, তাহাদের সংখ্যার অন্যূন নয়-দশমাংশ সংসদ সদস্যদের মধ্য হতে নিযুক্ত হবেন এবং অনধিক এক-দশমাংশ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের মধ্য থেকে মনোনীত হতে পারবেন।’ মন্ত্রিসভা ৪০ জনের হলে সে হিসাবে টেকনোক্র্যাট কোটায় চারজনকে মন্ত্রী করা যাবে।
জানতে চাইলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শামছুল আলম সেলিম বলেন, ‘দীর্ঘ আন্দোলনের পর একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে। এটি চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ফসল, তাই বিএনপির মন্ত্রিসভায় চমক থাকাটা স্বাভাবিক। মন্ত্রিসভায় যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের রাখা না রাখার বিষয়টিও আলোচনা হচ্ছে। তবে নির্বাচনের প্রাথমিক ফল অনুযায়ী বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় নিজেদের দলের সংহতি বজায় রাখাই হবে তারেক রহমানের প্রথম চ্যালেঞ্জ। যারা শাসন নয়, মানুষের সেবক হিসেবে কাজ করবেন—এমন কাউকে নিয়ে বিএনপিকে মন্ত্রিসভা গঠন করতে হবে।'