
০৭ মে, ২০২৬ ১২:৩৪
দীর্ঘ অনাবৃষ্টির পর অতিবর্ষণে বরিশালের প্লাবিত ফসলের মাঠের ক্ষত ফুটে উঠতে শুরু করেছে। সরকারি হিসেবেই লক্ষাধিক কৃষকের ৮৫ কোটি টাকার ফসল বিনষ্ট হয়েছে। বেসরকারি মতে ক্ষতির পরিমাণ ১৫০ কোটি টাকারও বেশি। গত তিন দিন ভারী কোনো বর্ষণ না হওয়ায় ইতোমধ্যে উঠতি বোরো, রোপা আউশসহ বীজতলা এবং মুগ, সয়াবিন ও সূর্যমুখীসহ অন্তত ১৭টি ফসলের ভয়াবহ ক্ষতির চিহ্ন স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। এ অঞ্চলের কৃষিযোদ্ধাদের অভিযোগ, ‘গণমাধ্যমসহ সরকারি প্রশাসন সবাই শুধু হাওর নিয়ে আছে, তারা আমাদের কোনো খোঁজ রাখে না’।
মার্চে বৃষ্টিপাতের ৪৯ ভাগ ঘাটতির পর এপ্রিলে ১৬৯ ভাগ বেশি বৃষ্টিপাত বরিশালের অনেক ফসলের মাঠ বিরান করে দিয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মতে, এপ্রিলের শেষ সপ্তাহের রেকর্ড ভারী বৃষ্টিপাতে বরিশালের প্রায় ২৫ হাজার টন ফসলের উৎপাদন ক্ষতি হয়েছে, যার বাজার মূল্য প্রায় ৮৫ কোটি টাকা। সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্তের তালিকায় বোরো ধান ছাড়াও মুগ ডাল, চীনা বাদাম, মরিচ, সয়াবিন ও সূর্যমুখী তেল ফসল ছাড়াও বিপুল রোপা আউশ ও আউশ বীজতলা রয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই)-র মতে, সদ্য বিদায়ী রবি মৌসুমে আবাদকৃত প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার হেক্টরের মধ্যে এখনো ২.৮১ লাখ হেক্টর জমির ফসল মাঠে। যার ১.৯১ লাখ হেক্টরই গত সপ্তাহের লাগাতার প্রবল বর্ষণে আক্রান্ত হয়েছে। এর প্রায় পুরোটাই সম্পূর্ণ থেকে আংশিক ক্ষতির কবলে পড়ে। তবে এর মধ্যে প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব জমির প্রায় ২৫ হাজার টন ফসল সম্পূর্ণভাবেই বিনষ্ট হয়েছে।
ডিএই’র মতে, ৭৫,৬১১ হেক্টর জমির বোরো ধান পানির তলায় চলে যাওয়ার ফলে ৫০০ হেক্টর জমির ধান সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে প্রায় আড়াই হাজার টন বোরো চালের উৎপাদন ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৭৭ হাজার হেক্টরের মুগ ডালের জমি প্লাবনের শিকার হয়েছে; যার মধ্যে প্রায় ৯ হাজার হেক্টরের মুগ সম্পূর্ণভাবে বিনষ্ট হয়েছে। ফলে প্রায় ১০ হাজার টন মুগ ডালের উৎপাদন ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যার বাজার মূল্য প্রায় ৩৩ কোটি টাকা।
অনুরূপভাবে সাড়ে ১০ হাজার হেক্টরের চীনা বাদাম ছাড়াও বিপুল পরিমাণ রোপা আউশ ও আউশ বীজতলা এবং প্রায় ৪ হাজার হেক্টরের গ্রীষ্মকালীন সবজি ও ৫ হাজার হেক্টরের সয়াবিন এবং আড়াই হাজার হেক্টরের সূর্যমুখী তেল বীজের বাগান অতিবর্ষণে প্লাবিত হয়ে ভয়াবহ ক্ষতির কবলে পড়েছে।
তবে এখনো প্রায় ১ লাখ হেক্টরের উঠতি বোরো ধান মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছে। বরিশাল কৃষি অঞ্চলে আবাদকৃত প্রায় ৪ লাখ হেক্টরে চলতি মৌসুমে প্রায় ১৮ লাখ টন বোরো চাল ঘরে তোলার কথা। কিন্তু মাঝারি থেকে বড় ধরনের কোনো ঝড় ছাড়াই অনাবৃষ্টির পর অতিবৃষ্টিতে কৃষকের স্বপ্নভঙ্গ হতে চলেছে। এখনো বোরো ধানের মাত্র ৩০ ভাগও কর্তন সম্ভব হয়নি। অন্তত পৌনে ৩ লাখ হেক্টর জমির বোরো ধান মাঠে। এসব ধানের অন্তত ১ লাখ হেক্টরই ‘হার্ড ডাব’ বা পাকার পর্যায়ে রয়েছে, যা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ঘরে তুলতে হবে। অবশিষ্ট আরও অন্তত দেড় লাখ হেক্টর ‘সফট ডাব’ বা দুধ পর্যায়ে, যা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কর্তন শুরু করতে হবে। ফ্লাওয়ারিং স্টেজে রয়েছে অবশিষ্ট ধান, যা চলতি মাসের শেষভাগে কর্তন শুরু করতে হবে।
কিন্তু বোরোর মাঠে পানি এবং নরম মাটির কারণে এসব জমিতে হার্ভেস্টার নামতে পারছে না। উপরন্তু বরিশাল অঞ্চলে এখনো কৃষি ব্যবস্থার অর্ধেকও যান্ত্রিকীকরণ সম্ভব হয়নি, ফলে হার্ভেস্টার সংকটও রয়েছে।
সব মিলিয়ে বৈশাখের ভারী বর্ষণ বোরো ধান নিয়ে চরম বিপাকে ফেলেছে বরিশাল অঞ্চলের কৃষিযোদ্ধাদের। টানা অনাবৃষ্টিতে অতিরিক্ত সেচ আর ডিজেল নিয়ে নানামুখী অপতৎপরতার পর বাড়তি দামে জ্বালানি সংগ্রহে সেচ ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির মধ্যেই বৈশাখের অতিবর্ষণে বিপুল পরিমাণ বোরো ধান পানির তলায়। এমনকি অতিবর্ষণের সাথে হালকা ঝড়ো হাওয়ায় অনেক জমির ধান ইতোমধ্যে নুয়ে পড়েছে। ফলে এসব ধানে চিটা ছাড়াও আংশিক থেকে পূর্ণ ক্ষতির আশঙ্কাও বাড়ছে।
টানা ১২৭ দিন পর গত ৯ মার্চ বরিশালে প্রথম বৃষ্টি হলেও পুরো মার্চ জুড়ে ঘাটতি ছিল প্রায় ৪৯%। ফলে বোরো ধানের জমিতে অতিরিক্ত সেচ দিতে হয়েছে। আবহাওয়া বিভাগ এপ্রিলে বরিশালে ১২০-১৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিলেও ২০ এপ্রিল দুপুর পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছিল মাত্র ৩১ মিলিমিটার। ফলে বোরো ধানে বাড়তি সেচের প্রয়োজনে ডিজেলের অতিরিক্ত চাহিদার সাথে মূল্য বৃদ্ধিতে উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে গেছে। সাথে তাপমাত্রার পারদ স্বাভাবিকের ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস ওপরে উঠে যাওয়ায় জমিতে পানি ধরে রাখতে বাড়তি দামেই অতিরিক্ত সেচ দিতে এবার বোরো ধানের উৎপাদন ব্যয় সাড়ে ১২০০ টাকার ওপরে উঠে যাওয়ার মধ্যে, এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ জুড়ে লাগাতার ভারী বর্ষণে বোরোসহ সব রবি ফসলের জমি পানির তলায় চলে যায়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল সূত্রের মতে, ভাটি এলাকা বিধায় এ অঞ্চলে ১৫ মার্চ পর্যন্ত রোপণ অব্যাহত থাকায় বোরো ধান পাকে প্রায় এক মাস বিলম্বে। কিন্তু এবারের বৈশাখের অতিবর্ষণসহ নানামুখী প্রাকৃতিক ছন্দপতন এ অঞ্চলের কৃষকের সব স্বপ্নকে মুছে দিতে উদ্যত।
এসব বিষয়ে ডিএই’র বরিশাল অঞ্চলের প্রধান নির্বাহী ও অতিরিক্ত পরিচালক ড. নজরুল ইসলাম সিকদারের সাথে আলাপ করা হলে তিনি জানান, “আমরা আবহাওয়া নিয়ে কিছুটা শংকিত থাকলেও সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজরদারি করতে সব ব্লক সুপারভাইজারদের মাঠে থাকতে বলা হয়েছে।” পরিস্থিতি অনুযায়ী কৃষকদের সব ধরনের কারিগরি পরামর্শ দেওয়ার কথাও জানান তিনি। ইতোমধ্যে বরিশালে প্রায় ৩২ ভাগ বোরো কর্তন সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়ে ‘হার্ড ডাব’ স্তরের ধানের কোনো ক্ষতি হবে না বলে জানান তিনি। পাশাপাশি ‘সফট ডাব’ স্তরের ধানের জমি থেকে পানি বের করতে কৃষকদের কারিগরি পরামর্শ প্রদানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এসব ধানেরও তেমন ক্ষতির আশঙ্কা নেই। তবে যেসব বোরো ধান ফুল স্তরে রয়েছে সেখানে কিছুটা দুশ্চিন্তা থাকলেও দ্রুত পানি সরে যাওয়ায় ক্ষতি হ্রাস করা সম্ভব হচ্ছে বলেও জানান অতিরিক্ত পরিচালক।
দীর্ঘ অনাবৃষ্টির পর অতিবর্ষণে বরিশালের প্লাবিত ফসলের মাঠের ক্ষত ফুটে উঠতে শুরু করেছে। সরকারি হিসেবেই লক্ষাধিক কৃষকের ৮৫ কোটি টাকার ফসল বিনষ্ট হয়েছে। বেসরকারি মতে ক্ষতির পরিমাণ ১৫০ কোটি টাকারও বেশি। গত তিন দিন ভারী কোনো বর্ষণ না হওয়ায় ইতোমধ্যে উঠতি বোরো, রোপা আউশসহ বীজতলা এবং মুগ, সয়াবিন ও সূর্যমুখীসহ অন্তত ১৭টি ফসলের ভয়াবহ ক্ষতির চিহ্ন স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। এ অঞ্চলের কৃষিযোদ্ধাদের অভিযোগ, ‘গণমাধ্যমসহ সরকারি প্রশাসন সবাই শুধু হাওর নিয়ে আছে, তারা আমাদের কোনো খোঁজ রাখে না’।
মার্চে বৃষ্টিপাতের ৪৯ ভাগ ঘাটতির পর এপ্রিলে ১৬৯ ভাগ বেশি বৃষ্টিপাত বরিশালের অনেক ফসলের মাঠ বিরান করে দিয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মতে, এপ্রিলের শেষ সপ্তাহের রেকর্ড ভারী বৃষ্টিপাতে বরিশালের প্রায় ২৫ হাজার টন ফসলের উৎপাদন ক্ষতি হয়েছে, যার বাজার মূল্য প্রায় ৮৫ কোটি টাকা। সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্তের তালিকায় বোরো ধান ছাড়াও মুগ ডাল, চীনা বাদাম, মরিচ, সয়াবিন ও সূর্যমুখী তেল ফসল ছাড়াও বিপুল রোপা আউশ ও আউশ বীজতলা রয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই)-র মতে, সদ্য বিদায়ী রবি মৌসুমে আবাদকৃত প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার হেক্টরের মধ্যে এখনো ২.৮১ লাখ হেক্টর জমির ফসল মাঠে। যার ১.৯১ লাখ হেক্টরই গত সপ্তাহের লাগাতার প্রবল বর্ষণে আক্রান্ত হয়েছে। এর প্রায় পুরোটাই সম্পূর্ণ থেকে আংশিক ক্ষতির কবলে পড়ে। তবে এর মধ্যে প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব জমির প্রায় ২৫ হাজার টন ফসল সম্পূর্ণভাবেই বিনষ্ট হয়েছে।
ডিএই’র মতে, ৭৫,৬১১ হেক্টর জমির বোরো ধান পানির তলায় চলে যাওয়ার ফলে ৫০০ হেক্টর জমির ধান সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে প্রায় আড়াই হাজার টন বোরো চালের উৎপাদন ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৭৭ হাজার হেক্টরের মুগ ডালের জমি প্লাবনের শিকার হয়েছে; যার মধ্যে প্রায় ৯ হাজার হেক্টরের মুগ সম্পূর্ণভাবে বিনষ্ট হয়েছে। ফলে প্রায় ১০ হাজার টন মুগ ডালের উৎপাদন ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যার বাজার মূল্য প্রায় ৩৩ কোটি টাকা।
অনুরূপভাবে সাড়ে ১০ হাজার হেক্টরের চীনা বাদাম ছাড়াও বিপুল পরিমাণ রোপা আউশ ও আউশ বীজতলা এবং প্রায় ৪ হাজার হেক্টরের গ্রীষ্মকালীন সবজি ও ৫ হাজার হেক্টরের সয়াবিন এবং আড়াই হাজার হেক্টরের সূর্যমুখী তেল বীজের বাগান অতিবর্ষণে প্লাবিত হয়ে ভয়াবহ ক্ষতির কবলে পড়েছে।
তবে এখনো প্রায় ১ লাখ হেক্টরের উঠতি বোরো ধান মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছে। বরিশাল কৃষি অঞ্চলে আবাদকৃত প্রায় ৪ লাখ হেক্টরে চলতি মৌসুমে প্রায় ১৮ লাখ টন বোরো চাল ঘরে তোলার কথা। কিন্তু মাঝারি থেকে বড় ধরনের কোনো ঝড় ছাড়াই অনাবৃষ্টির পর অতিবৃষ্টিতে কৃষকের স্বপ্নভঙ্গ হতে চলেছে। এখনো বোরো ধানের মাত্র ৩০ ভাগও কর্তন সম্ভব হয়নি। অন্তত পৌনে ৩ লাখ হেক্টর জমির বোরো ধান মাঠে। এসব ধানের অন্তত ১ লাখ হেক্টরই ‘হার্ড ডাব’ বা পাকার পর্যায়ে রয়েছে, যা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ঘরে তুলতে হবে। অবশিষ্ট আরও অন্তত দেড় লাখ হেক্টর ‘সফট ডাব’ বা দুধ পর্যায়ে, যা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কর্তন শুরু করতে হবে। ফ্লাওয়ারিং স্টেজে রয়েছে অবশিষ্ট ধান, যা চলতি মাসের শেষভাগে কর্তন শুরু করতে হবে।
কিন্তু বোরোর মাঠে পানি এবং নরম মাটির কারণে এসব জমিতে হার্ভেস্টার নামতে পারছে না। উপরন্তু বরিশাল অঞ্চলে এখনো কৃষি ব্যবস্থার অর্ধেকও যান্ত্রিকীকরণ সম্ভব হয়নি, ফলে হার্ভেস্টার সংকটও রয়েছে।
সব মিলিয়ে বৈশাখের ভারী বর্ষণ বোরো ধান নিয়ে চরম বিপাকে ফেলেছে বরিশাল অঞ্চলের কৃষিযোদ্ধাদের। টানা অনাবৃষ্টিতে অতিরিক্ত সেচ আর ডিজেল নিয়ে নানামুখী অপতৎপরতার পর বাড়তি দামে জ্বালানি সংগ্রহে সেচ ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির মধ্যেই বৈশাখের অতিবর্ষণে বিপুল পরিমাণ বোরো ধান পানির তলায়। এমনকি অতিবর্ষণের সাথে হালকা ঝড়ো হাওয়ায় অনেক জমির ধান ইতোমধ্যে নুয়ে পড়েছে। ফলে এসব ধানে চিটা ছাড়াও আংশিক থেকে পূর্ণ ক্ষতির আশঙ্কাও বাড়ছে।
টানা ১২৭ দিন পর গত ৯ মার্চ বরিশালে প্রথম বৃষ্টি হলেও পুরো মার্চ জুড়ে ঘাটতি ছিল প্রায় ৪৯%। ফলে বোরো ধানের জমিতে অতিরিক্ত সেচ দিতে হয়েছে। আবহাওয়া বিভাগ এপ্রিলে বরিশালে ১২০-১৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিলেও ২০ এপ্রিল দুপুর পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছিল মাত্র ৩১ মিলিমিটার। ফলে বোরো ধানে বাড়তি সেচের প্রয়োজনে ডিজেলের অতিরিক্ত চাহিদার সাথে মূল্য বৃদ্ধিতে উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে গেছে। সাথে তাপমাত্রার পারদ স্বাভাবিকের ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস ওপরে উঠে যাওয়ায় জমিতে পানি ধরে রাখতে বাড়তি দামেই অতিরিক্ত সেচ দিতে এবার বোরো ধানের উৎপাদন ব্যয় সাড়ে ১২০০ টাকার ওপরে উঠে যাওয়ার মধ্যে, এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ জুড়ে লাগাতার ভারী বর্ষণে বোরোসহ সব রবি ফসলের জমি পানির তলায় চলে যায়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল সূত্রের মতে, ভাটি এলাকা বিধায় এ অঞ্চলে ১৫ মার্চ পর্যন্ত রোপণ অব্যাহত থাকায় বোরো ধান পাকে প্রায় এক মাস বিলম্বে। কিন্তু এবারের বৈশাখের অতিবর্ষণসহ নানামুখী প্রাকৃতিক ছন্দপতন এ অঞ্চলের কৃষকের সব স্বপ্নকে মুছে দিতে উদ্যত।
এসব বিষয়ে ডিএই’র বরিশাল অঞ্চলের প্রধান নির্বাহী ও অতিরিক্ত পরিচালক ড. নজরুল ইসলাম সিকদারের সাথে আলাপ করা হলে তিনি জানান, “আমরা আবহাওয়া নিয়ে কিছুটা শংকিত থাকলেও সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজরদারি করতে সব ব্লক সুপারভাইজারদের মাঠে থাকতে বলা হয়েছে।” পরিস্থিতি অনুযায়ী কৃষকদের সব ধরনের কারিগরি পরামর্শ দেওয়ার কথাও জানান তিনি। ইতোমধ্যে বরিশালে প্রায় ৩২ ভাগ বোরো কর্তন সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়ে ‘হার্ড ডাব’ স্তরের ধানের কোনো ক্ষতি হবে না বলে জানান তিনি। পাশাপাশি ‘সফট ডাব’ স্তরের ধানের জমি থেকে পানি বের করতে কৃষকদের কারিগরি পরামর্শ প্রদানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এসব ধানেরও তেমন ক্ষতির আশঙ্কা নেই। তবে যেসব বোরো ধান ফুল স্তরে রয়েছে সেখানে কিছুটা দুশ্চিন্তা থাকলেও দ্রুত পানি সরে যাওয়ায় ক্ষতি হ্রাস করা সম্ভব হচ্ছে বলেও জানান অতিরিক্ত পরিচালক।

০৯ মে, ২০২৬ ১৯:৩২
বরিশাল নগরীর রসুলপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১০৫৮ পিস ইয়াবা, ১ কেজি ৫৮০ গ্রাম গাঁজা এবং মাদক বিক্রির নগদ ৬ লাখ ৯৯ হাজার ৮৩০ টাকাসহ এক নারী মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এ সময় তার স্বামী পালিয়ে যান। শনিবার (৯ মে) সকালে জেলার কোতয়ালী মডেল থানাধীন রসুলপুর কলোনীতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
গ্রেপ্তার সোহাগী বেগম (২৮) রসুলপুর এলাকার বাসিন্দা। অভিযানে তার স্বামী রেজাউল শিকদার রেজা (৩০) পালিয়ে গেছেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সোহাগী বেগম এবং রেজাউল শিকদার রেজার টিনের চালা ও টিনের বেড়াযুক্ত দোতলা বসতঘরে অভিযান চালিয়ে একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ থেকে ১ কেজি ১৩০ গ্রাম লুজ গাঁজা এবং ৮২টি গাঁজার পুড়িয়া, যার ওজন ৪৫০ গ্রাম, উদ্ধার করা হয়। এছাড়া একটি পার্স ব্যাগের ভেতর থেকে ৪টি জিপারযুক্ত পলিথিনে রাখা ১ হাজার ৫৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার মোট ওজন ১০৫ দশমিক ৮০ গ্রাম। একই স্থান থেকে মাদক বিক্রির নগদ ৬ লাখ ৯৯ হাজার ৮৩০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় কোতয়ালী মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে, নিশ্চিত করেছেন জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক।

০৯ মে, ২০২৬ ১৯:০৮
অবশেষে বরিশালের বানারীপাড়ায় ৫ টি মামলায় ওয়ারেন্টভূক্ত পলাতক আসামী রঞ্জন মজুমদারকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর শুক্রবার (৮মে) রাতে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলা সদর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার (৯ মে) তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
জানা গেছে, রঞ্জন মজুমদারের বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে পৃথক ৫টি মামলায় আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল। তার গ্রামের বাড়ি বানারীপাড়া উপজেলার উদয়কাঠী ইউনিয়নের তেতলা গ্রামে। তার বাবার নাম হরেন্দ্রনাথ মজুমদার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেবা কল্যাণ সঞ্চয় ঋনদান সমিতি নামের এনজিও ব্যবসার নামে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে বানারীপাড়া উপজেলার সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় রঞ্জন।
পরে গ্রাহকদের আমানতের টাকা আত্মসাৎ করে দীর্ঘদিন এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায় সে। তার প্রতারণার শিকার হয়ে বহু মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের কাছে তার গ্রেফতার ও আত্মসাৎ হওয়া টাকা উদ্ধারের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। অবশেষে তার গ্রেফতারের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে।
বানারীপাড়া থানার ওসি মজিবুর রহমান জানান, ৫টি মামলায় আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে তাকে খুঁজছিল পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার (৯ মে) তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

০৯ মে, ২০২৬ ১৮:৫৯
বরিশালের বানারীপাড়ায় বিশারকান্দি ইউনিয়নে ৫ মাদকসেবীকে আটক করে মোবাইল কোর্টে ১০ দিন করে সাজা দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (৮ মে) রাত ১২ টার দিকে গাঁজা সেবনকালে লবণসাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক মোঃ
আরাফাতের নেতৃত্বে তাদের আটক করার পরে বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ বায়েজিদুর রহমান মোবাইল কোর্টে তাদের ১০ দিন করে সাজা দেন। সাজাপ্রাপ্তরা হলেন উপজেলার বিশারকান্দি ইউনিয়নের উমারেরপাড় গ্রামের মোঃ মিল্লাত হোসেন হাওলাদার (১৯) ও মোঃ পারভেজ মাঝি (১৯), বিশারকান্দি গ্রামের মোঃ নাঈম হাসান (২১), পার্শ্ববর্তী স্বরূপকাঠী উপজেলার উত্তর বলদিয়া গ্রামের
মোঃ আল-আমিন (২৫) এবং রহমাতুল্লাহ (১৯)। শনিবার (৯ মে) সকালে তাদের বরিশাল আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। বানারীপাড়া থানার ওসি মোঃ মজিবুর রহমান জানান, গাঁজাসেবনকালে তাদের আটক করে মোবাইল কোর্টে দশ দিন করে সাজা দেওয়া হয়েছে। শনিবার তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
বরিশাল নগরীর রসুলপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১০৫৮ পিস ইয়াবা, ১ কেজি ৫৮০ গ্রাম গাঁজা এবং মাদক বিক্রির নগদ ৬ লাখ ৯৯ হাজার ৮৩০ টাকাসহ এক নারী মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এ সময় তার স্বামী পালিয়ে যান। শনিবার (৯ মে) সকালে জেলার কোতয়ালী মডেল থানাধীন রসুলপুর কলোনীতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
গ্রেপ্তার সোহাগী বেগম (২৮) রসুলপুর এলাকার বাসিন্দা। অভিযানে তার স্বামী রেজাউল শিকদার রেজা (৩০) পালিয়ে গেছেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সোহাগী বেগম এবং রেজাউল শিকদার রেজার টিনের চালা ও টিনের বেড়াযুক্ত দোতলা বসতঘরে অভিযান চালিয়ে একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ থেকে ১ কেজি ১৩০ গ্রাম লুজ গাঁজা এবং ৮২টি গাঁজার পুড়িয়া, যার ওজন ৪৫০ গ্রাম, উদ্ধার করা হয়। এছাড়া একটি পার্স ব্যাগের ভেতর থেকে ৪টি জিপারযুক্ত পলিথিনে রাখা ১ হাজার ৫৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার মোট ওজন ১০৫ দশমিক ৮০ গ্রাম। একই স্থান থেকে মাদক বিক্রির নগদ ৬ লাখ ৯৯ হাজার ৮৩০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় কোতয়ালী মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে, নিশ্চিত করেছেন জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক।
অবশেষে বরিশালের বানারীপাড়ায় ৫ টি মামলায় ওয়ারেন্টভূক্ত পলাতক আসামী রঞ্জন মজুমদারকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর শুক্রবার (৮মে) রাতে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলা সদর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার (৯ মে) তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
জানা গেছে, রঞ্জন মজুমদারের বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে পৃথক ৫টি মামলায় আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল। তার গ্রামের বাড়ি বানারীপাড়া উপজেলার উদয়কাঠী ইউনিয়নের তেতলা গ্রামে। তার বাবার নাম হরেন্দ্রনাথ মজুমদার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেবা কল্যাণ সঞ্চয় ঋনদান সমিতি নামের এনজিও ব্যবসার নামে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে বানারীপাড়া উপজেলার সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় রঞ্জন।
পরে গ্রাহকদের আমানতের টাকা আত্মসাৎ করে দীর্ঘদিন এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায় সে। তার প্রতারণার শিকার হয়ে বহু মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের কাছে তার গ্রেফতার ও আত্মসাৎ হওয়া টাকা উদ্ধারের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। অবশেষে তার গ্রেফতারের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে।
বানারীপাড়া থানার ওসি মজিবুর রহমান জানান, ৫টি মামলায় আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে তাকে খুঁজছিল পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার (৯ মে) তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
বরিশালের বানারীপাড়ায় বিশারকান্দি ইউনিয়নে ৫ মাদকসেবীকে আটক করে মোবাইল কোর্টে ১০ দিন করে সাজা দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (৮ মে) রাত ১২ টার দিকে গাঁজা সেবনকালে লবণসাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক মোঃ
আরাফাতের নেতৃত্বে তাদের আটক করার পরে বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ বায়েজিদুর রহমান মোবাইল কোর্টে তাদের ১০ দিন করে সাজা দেন। সাজাপ্রাপ্তরা হলেন উপজেলার বিশারকান্দি ইউনিয়নের উমারেরপাড় গ্রামের মোঃ মিল্লাত হোসেন হাওলাদার (১৯) ও মোঃ পারভেজ মাঝি (১৯), বিশারকান্দি গ্রামের মোঃ নাঈম হাসান (২১), পার্শ্ববর্তী স্বরূপকাঠী উপজেলার উত্তর বলদিয়া গ্রামের
মোঃ আল-আমিন (২৫) এবং রহমাতুল্লাহ (১৯)। শনিবার (৯ মে) সকালে তাদের বরিশাল আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। বানারীপাড়া থানার ওসি মোঃ মজিবুর রহমান জানান, গাঁজাসেবনকালে তাদের আটক করে মোবাইল কোর্টে দশ দিন করে সাজা দেওয়া হয়েছে। শনিবার তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।