
২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১১:১০
দেশীয় প্রায় সাড়ে ৩শ কোটি টাকা ব্যায়ে বিএডিসি বরিশালের ২৮ উপজেলার সাড়ে ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা সৃষ্টির মাধ্যমে ৬৬ হাজার টন অতিরিক্ত খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে বাস্তাবায়নাধীন প্রকল্পটির ভৌত অবকাঠামোর প্রায় ৭০ ভাগ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তবে ২০২৩ এর সেপ্টেম্বর থেকে চলতি ডিসেম্বর মাসের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা থাকলেও এর মেয়াদ আরো অন্তত একবছর বৃদ্ধি করতে হচ্ছে। প্রকল্পটির জন্য গত অর্থবছর পর্যন্ত প্রায় ১৩৫ কোটি টাকা ব্যায়ের পরে চলতি অর্থ বছরে আরো ১১৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যারমধ্যে গত অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যায় হয়েছে। ফলে সামগ্রিকভাবে প্রকল্পটির জন্য ব্যায়ের পরিমান প্রায় ২৫৫ কোটিতে দাঁড়াচ্ছে। ভৌত অগ্রগতির হার প্রায় ৬৫ ভাগ বলে বিএডিসির প্রকল্প পরিচালক জানিয়েছেন।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ভূ-গর্ভস্থ পানির ব্যাবহার হ্রাস করে ভূ-উপরিস্থিত পানির ব্যবহার বর্তমানের ১ লাখ ৫৭ হাজার হেক্টর থেকে প্রায় ১ লাখ ৭৪ হাজার হেক্টরে উন্নীত হবে। পাশাপাশি সৌরচালিত লো-লিফট পাম্পের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য শক্তির মাধ্যমে পুন:খননকৃত খাল ও পুকুর সহ ফসল রক্ষা বাঁধে বৃক্ষ রোপনের মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করনে সহায়তা করবে। ফলে ভূ-উপরিস্থিত পানির ব্যবহার বৃদ্ধির মাধ্যমে ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলন হ্রাসের ফলে পানির স্তর নিচে নেমে যাবার প্রবনতা কিছুটা হলেও রোধ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে বিএডিসি’র দায়িত্বশীল মহল।
প্রায় ১২ লাখ টন খাদ্য উদ্বৃত্ত বরিশাল কৃষি অঞ্চলে সেচযোগ্য জমির অর্ধেক এখনো সেচের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। রবি মৌসুমে বরিশাল অঞ্চলে ২ লক্ষাধিক হেক্টর জমিতে সেচাবাদ হলেও তারমধ্যে কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন-বিএডিসি’র অবদান ২০ হাজার হেক্টরেরও কম। উপরন্তু গত রবি মৌসুমে এ অঞ্চলের মাঠে ব্যবহৃত বিভিন্ন মাপের ১৯,৪৩৮টি সেচ পাম্পের মধ্যে বিদ্যুৎ চালিত পাম্পের সংখ্যা ছিল মাত্র ১,৪৬২টি বা ৭.৫১%। ডিজেল চালিত পাম্প ১৭,৯৫৮ বা ৯২.৩০%। আর সোলার চালিত পাম্প ছিল ৩৭টি বা ০.১৯ভাগ।
এমনকি সরকার ২০০২-০৩ সাল থেকে কৃষিসেচ কাজে ব্যবহৃত বিদ্যুতে ২০% ভর্তুকি প্রদান করলেও অধিক ব্যায়বহুল ডিজেলচালিত পাম্পে কোন ভর্তুকি নেই। অথচ বরিশাল অঞ্চলে সেচকাজে ব্যবহৃত ৯৩ ভাগ সেচ যন্ত্রই ব্যায়বহুল ডিজেলচালিত। ফলে এ অঞ্চলে অত্যাধিক সেচ ব্যায়ের কারণে ধানের উৎপাদন ব্যায়ও দেশের যেকোন স্থানের তুলনায় বেশী।
ফলে একদিকে রবি মৌসুমে সেচাবাদে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে না, অপরদিকে অধিক ব্যায়বহুল সেচ ব্যায়ের কারণে তাদের ভাগ্যেরও পরিবর্তন হচ্ছে না। অথচ সেচযন্ত্রের অর্ধেকও বিদ্যুতায়িত করতে পারলে এ অঞ্চলের খাদ্য উৎপাদন বর্তমানের প্রায় ৫০ লাখ টনের স্থলে অন্তত ৬০ লাখ টনে উন্নীত করা সম্ভব বলে মনে করছেন মাঠ পর্যায়ের কৃষিবীদরা। এমনকি কৃষিসেচ ব্যবস্থা বিদ্যুতায়িত করতে পারলে লাগাতার লোকাসানে থাকা এ অঞ্চলের পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোও আর্থিক বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে পারতো বলে মনে করছেন জ¦ালানী বিশেষজ্ঞরা।
সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রণালয় আহুত ‘ট্রান্সফর্মিং বাংলাদেশ এগ্রিকালচার আউটলুক ২০২৫’ শির্ষক এক কর্মশালায়, ‘বরিশাল কৃষি অঞ্চলে সেচযোগ্য জমির পরিমান ৬ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৪ হেক্টর বলে জানিয়ে এরমধ্যে মাত্র ২ লাখ ২৫ হাজার ৪৩ হেক্টর জমি সেচের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এ অঞ্চলে সেচের আওতায় আনা জমির পরিমান এখনো মাত্র ৩৫.৭৫ ভাগ বলে ঐ কর্মশালায় উপস্থাপন করে বোরো মৌসুমেই আবাদযোগ্য অনাবাদি জমির পরিমান ৯৮ হাজার ৩৭৫ হেক্টর বলে জানান হয়েছে।
এসব বিবেচনায় বিএডিসি ২০২৩-২৪ অর্থ বছর থেকে ‘বরিশাল অঞ্চলে সেচ উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় বিদ্যুৎচালিত ২৫০টি, ১ ও ২ কিউসেক সেচযন্ত্র, ২০টি ১কিউসেক ক্ষমতা সম্পন্ন সোলার লো-লিফট পাম্প, ৩২৫ কিলোমিটার ছোট সেচ খাল ও ৫০ কিলোমিটার বড় সেচখাল পুন:খনন এবং প্রতি কিলোমিটারে ৪টি করে বিভিন্ন খালের পাড়ে প্রায় দেড় হাজার পানি নির্গমন স্থাপনা নির্মান করা হচ্ছে। প্রকল্পটির আওতায় ২শটি পাম্প হাউজ ও ৩শটি ওয়াটার পাস নির্মান করা হচ্ছে। একই সাথে প্রায় ৪ হাজার ঘনমিটার করে ৩০টি পুকুর পুন:খননও ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সেসব পুকুর থেকে বিভিন্ন জমিতে সেচ প্রদানও সম্ভব হবে। একইসাথে প্রকল্পটির আওতায় ২৭০টি ১ ও ২ কিউেসেক ক্ষমতার ভূ-গর্ভস্থ সেচনালাও খনন করা হচ্ছে। প্রকল্পটির আওতায় ৪০ কিলোমিটার ফসল রক্ষা বাঁধও নির্মিত হচ্ছে। প্রকল্প এলাকায় ফলের বাগানের জন্য ৭৫টি ড্রিপ ইরিগেশন সিস্টেম ও ৪০টি ভূ-গর্ভস্থ নিষ্কাশন নালা নির্মিত হচ্ছে। এছাড়া প্রকল্প এলাকার খালগুরোতে পানি ধরে রাখতে ২০৩ ভিন্টের ৩০টি রেগুলেটর’ও নির্মান করা হচ্ছে।
২০২৬ সালের ডিসেম্বর নাগাদ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ১৬,৫০৪ হেক্টর জমিতে বাড়তি সেচ সুবিধা নিশ্চিতের মাধ্যমে ৬৬ হাজার ১৪ টন খাদ্যশস্য উৎপন্ন হবে বলে আশা করছে বিএডিসি’র দায়িত্বশীল মহল। একইসাথে ফলের বাগানেও সেচ সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে বিভিন্ন ফলের আবাদ ও উৎপাদন বাড়বে বলেও আশাবাদী কৃষিবীদ সহ বিএডিসি। এ ব্যাপারে প্রকল্প পরিচালক সৈয়দ ওয়াহিদ মুরাদ জানান, আমরা প্রতিটি বিষয়ে সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে প্রকল্পটি বাস্তাবায়নের চেষ্টা করছি। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কৃষি প্রধান বরিশাল অঞ্চলে এ ক্ষেত্রে অগ্রগতিকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।
দেশীয় প্রায় সাড়ে ৩শ কোটি টাকা ব্যায়ে বিএডিসি বরিশালের ২৮ উপজেলার সাড়ে ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা সৃষ্টির মাধ্যমে ৬৬ হাজার টন অতিরিক্ত খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে বাস্তাবায়নাধীন প্রকল্পটির ভৌত অবকাঠামোর প্রায় ৭০ ভাগ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তবে ২০২৩ এর সেপ্টেম্বর থেকে চলতি ডিসেম্বর মাসের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা থাকলেও এর মেয়াদ আরো অন্তত একবছর বৃদ্ধি করতে হচ্ছে। প্রকল্পটির জন্য গত অর্থবছর পর্যন্ত প্রায় ১৩৫ কোটি টাকা ব্যায়ের পরে চলতি অর্থ বছরে আরো ১১৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যারমধ্যে গত অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যায় হয়েছে। ফলে সামগ্রিকভাবে প্রকল্পটির জন্য ব্যায়ের পরিমান প্রায় ২৫৫ কোটিতে দাঁড়াচ্ছে। ভৌত অগ্রগতির হার প্রায় ৬৫ ভাগ বলে বিএডিসির প্রকল্প পরিচালক জানিয়েছেন।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ভূ-গর্ভস্থ পানির ব্যাবহার হ্রাস করে ভূ-উপরিস্থিত পানির ব্যবহার বর্তমানের ১ লাখ ৫৭ হাজার হেক্টর থেকে প্রায় ১ লাখ ৭৪ হাজার হেক্টরে উন্নীত হবে। পাশাপাশি সৌরচালিত লো-লিফট পাম্পের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য শক্তির মাধ্যমে পুন:খননকৃত খাল ও পুকুর সহ ফসল রক্ষা বাঁধে বৃক্ষ রোপনের মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করনে সহায়তা করবে। ফলে ভূ-উপরিস্থিত পানির ব্যবহার বৃদ্ধির মাধ্যমে ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলন হ্রাসের ফলে পানির স্তর নিচে নেমে যাবার প্রবনতা কিছুটা হলেও রোধ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে বিএডিসি’র দায়িত্বশীল মহল।
প্রায় ১২ লাখ টন খাদ্য উদ্বৃত্ত বরিশাল কৃষি অঞ্চলে সেচযোগ্য জমির অর্ধেক এখনো সেচের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। রবি মৌসুমে বরিশাল অঞ্চলে ২ লক্ষাধিক হেক্টর জমিতে সেচাবাদ হলেও তারমধ্যে কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন-বিএডিসি’র অবদান ২০ হাজার হেক্টরেরও কম। উপরন্তু গত রবি মৌসুমে এ অঞ্চলের মাঠে ব্যবহৃত বিভিন্ন মাপের ১৯,৪৩৮টি সেচ পাম্পের মধ্যে বিদ্যুৎ চালিত পাম্পের সংখ্যা ছিল মাত্র ১,৪৬২টি বা ৭.৫১%। ডিজেল চালিত পাম্প ১৭,৯৫৮ বা ৯২.৩০%। আর সোলার চালিত পাম্প ছিল ৩৭টি বা ০.১৯ভাগ।
এমনকি সরকার ২০০২-০৩ সাল থেকে কৃষিসেচ কাজে ব্যবহৃত বিদ্যুতে ২০% ভর্তুকি প্রদান করলেও অধিক ব্যায়বহুল ডিজেলচালিত পাম্পে কোন ভর্তুকি নেই। অথচ বরিশাল অঞ্চলে সেচকাজে ব্যবহৃত ৯৩ ভাগ সেচ যন্ত্রই ব্যায়বহুল ডিজেলচালিত। ফলে এ অঞ্চলে অত্যাধিক সেচ ব্যায়ের কারণে ধানের উৎপাদন ব্যায়ও দেশের যেকোন স্থানের তুলনায় বেশী।
ফলে একদিকে রবি মৌসুমে সেচাবাদে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে না, অপরদিকে অধিক ব্যায়বহুল সেচ ব্যায়ের কারণে তাদের ভাগ্যেরও পরিবর্তন হচ্ছে না। অথচ সেচযন্ত্রের অর্ধেকও বিদ্যুতায়িত করতে পারলে এ অঞ্চলের খাদ্য উৎপাদন বর্তমানের প্রায় ৫০ লাখ টনের স্থলে অন্তত ৬০ লাখ টনে উন্নীত করা সম্ভব বলে মনে করছেন মাঠ পর্যায়ের কৃষিবীদরা। এমনকি কৃষিসেচ ব্যবস্থা বিদ্যুতায়িত করতে পারলে লাগাতার লোকাসানে থাকা এ অঞ্চলের পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোও আর্থিক বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে পারতো বলে মনে করছেন জ¦ালানী বিশেষজ্ঞরা।
সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রণালয় আহুত ‘ট্রান্সফর্মিং বাংলাদেশ এগ্রিকালচার আউটলুক ২০২৫’ শির্ষক এক কর্মশালায়, ‘বরিশাল কৃষি অঞ্চলে সেচযোগ্য জমির পরিমান ৬ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৪ হেক্টর বলে জানিয়ে এরমধ্যে মাত্র ২ লাখ ২৫ হাজার ৪৩ হেক্টর জমি সেচের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এ অঞ্চলে সেচের আওতায় আনা জমির পরিমান এখনো মাত্র ৩৫.৭৫ ভাগ বলে ঐ কর্মশালায় উপস্থাপন করে বোরো মৌসুমেই আবাদযোগ্য অনাবাদি জমির পরিমান ৯৮ হাজার ৩৭৫ হেক্টর বলে জানান হয়েছে।
এসব বিবেচনায় বিএডিসি ২০২৩-২৪ অর্থ বছর থেকে ‘বরিশাল অঞ্চলে সেচ উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় বিদ্যুৎচালিত ২৫০টি, ১ ও ২ কিউসেক সেচযন্ত্র, ২০টি ১কিউসেক ক্ষমতা সম্পন্ন সোলার লো-লিফট পাম্প, ৩২৫ কিলোমিটার ছোট সেচ খাল ও ৫০ কিলোমিটার বড় সেচখাল পুন:খনন এবং প্রতি কিলোমিটারে ৪টি করে বিভিন্ন খালের পাড়ে প্রায় দেড় হাজার পানি নির্গমন স্থাপনা নির্মান করা হচ্ছে। প্রকল্পটির আওতায় ২শটি পাম্প হাউজ ও ৩শটি ওয়াটার পাস নির্মান করা হচ্ছে। একই সাথে প্রায় ৪ হাজার ঘনমিটার করে ৩০টি পুকুর পুন:খননও ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সেসব পুকুর থেকে বিভিন্ন জমিতে সেচ প্রদানও সম্ভব হবে। একইসাথে প্রকল্পটির আওতায় ২৭০টি ১ ও ২ কিউেসেক ক্ষমতার ভূ-গর্ভস্থ সেচনালাও খনন করা হচ্ছে। প্রকল্পটির আওতায় ৪০ কিলোমিটার ফসল রক্ষা বাঁধও নির্মিত হচ্ছে। প্রকল্প এলাকায় ফলের বাগানের জন্য ৭৫টি ড্রিপ ইরিগেশন সিস্টেম ও ৪০টি ভূ-গর্ভস্থ নিষ্কাশন নালা নির্মিত হচ্ছে। এছাড়া প্রকল্প এলাকার খালগুরোতে পানি ধরে রাখতে ২০৩ ভিন্টের ৩০টি রেগুলেটর’ও নির্মান করা হচ্ছে।
২০২৬ সালের ডিসেম্বর নাগাদ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ১৬,৫০৪ হেক্টর জমিতে বাড়তি সেচ সুবিধা নিশ্চিতের মাধ্যমে ৬৬ হাজার ১৪ টন খাদ্যশস্য উৎপন্ন হবে বলে আশা করছে বিএডিসি’র দায়িত্বশীল মহল। একইসাথে ফলের বাগানেও সেচ সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে বিভিন্ন ফলের আবাদ ও উৎপাদন বাড়বে বলেও আশাবাদী কৃষিবীদ সহ বিএডিসি। এ ব্যাপারে প্রকল্প পরিচালক সৈয়দ ওয়াহিদ মুরাদ জানান, আমরা প্রতিটি বিষয়ে সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে প্রকল্পটি বাস্তাবায়নের চেষ্টা করছি। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কৃষি প্রধান বরিশাল অঞ্চলে এ ক্ষেত্রে অগ্রগতিকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।
১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৩:২৩
১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৩:০৫
১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১২:৪৫
১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১২:৪১

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৩:০৫
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা চার দিন ব্যাংক বন্ধ থাকার কথা থাকলেও, শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দেশের নির্দিষ্ট কিছু ব্যাংক শাখা ও উপশাখা সীমিত পরিসরে খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মূলত দেশব্যাপী নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে ডিলারদের সুবিধার্থে এই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড এনালিটিক্স ডিপার্টমেন্ট (এসডিএমএডি) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটরস, এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই নির্দেশনা জারি করেছে। নির্বাচন ও ছুটির কারণে ব্যাংকিং সেবা দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে জ্বালানি তেল ক্রয়ে ডিলারদের সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে- এমন আশঙ্কায় নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় ব্যাংক খোলা রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
শনিবার যেসব ও শাখা খোলা থাকবে:
পূবালী ব্যাংক পিএলসি: নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা শাখা, খুলনার খালিশপুর শাখা, দিনাজপুরের পার্বতীপুর শাখা, রংপুরের শাপলা চত্বর শাখা, চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ শাখা, চাঁদপুরের চাঁদপুর প্রধান শাখা, ঝালকাঠির ঝালকাঠি শাখা, বরিশালের বরিশাল শাখা, কিশোরগঞ্জের ভৈরব বাজার শাখা এবং সিলেটের বড়ই কান্দি শাখা।
উত্তরা ব্যাংক পিএলসি: খুলনার খালিশপুর শাখা।
জনতা ব্যাংক পিএলসি: সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী ঘাট শাখা।
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি: সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী ঘাট শাখা।
ওয়ান ব্যাংক পিএলসি: দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপশাখা।
উল্লেখ্য, এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছিল, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি (বুধ ও বৃহস্পতিবার) দেশের সব তফসিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে। এর সঙ্গে শুক্র ও শনিবারের (১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি) সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় টানা চার দিন ব্যাংক বন্ধের ঘোষণা ছিল। তবে বিশেষ প্রয়োজনে উল্লিখিত শাখাগুলো শনিবার সীমিত পরিসরে লেনদেন চালিয়ে যাবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা চার দিন ব্যাংক বন্ধ থাকার কথা থাকলেও, শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দেশের নির্দিষ্ট কিছু ব্যাংক শাখা ও উপশাখা সীমিত পরিসরে খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মূলত দেশব্যাপী নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে ডিলারদের সুবিধার্থে এই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড এনালিটিক্স ডিপার্টমেন্ট (এসডিএমএডি) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটরস, এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই নির্দেশনা জারি করেছে। নির্বাচন ও ছুটির কারণে ব্যাংকিং সেবা দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে জ্বালানি তেল ক্রয়ে ডিলারদের সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে- এমন আশঙ্কায় নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় ব্যাংক খোলা রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
শনিবার যেসব ও শাখা খোলা থাকবে:
পূবালী ব্যাংক পিএলসি: নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা শাখা, খুলনার খালিশপুর শাখা, দিনাজপুরের পার্বতীপুর শাখা, রংপুরের শাপলা চত্বর শাখা, চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ শাখা, চাঁদপুরের চাঁদপুর প্রধান শাখা, ঝালকাঠির ঝালকাঠি শাখা, বরিশালের বরিশাল শাখা, কিশোরগঞ্জের ভৈরব বাজার শাখা এবং সিলেটের বড়ই কান্দি শাখা।
উত্তরা ব্যাংক পিএলসি: খুলনার খালিশপুর শাখা।
জনতা ব্যাংক পিএলসি: সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী ঘাট শাখা।
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি: সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী ঘাট শাখা।
ওয়ান ব্যাংক পিএলসি: দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপশাখা।
উল্লেখ্য, এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছিল, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি (বুধ ও বৃহস্পতিবার) দেশের সব তফসিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে। এর সঙ্গে শুক্র ও শনিবারের (১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি) সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় টানা চার দিন ব্যাংক বন্ধের ঘোষণা ছিল। তবে বিশেষ প্রয়োজনে উল্লিখিত শাখাগুলো শনিবার সীমিত পরিসরে লেনদেন চালিয়ে যাবে।

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১২:২৮
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটের দিন বরিশালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ১৬ হাজার সদস্য মাঠে সক্রিয় থাকবেন। অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন করতে নজিরবিহীন নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা হয়েছে গোটা বরিশাল। তবুও শঙ্কায় রয়েছেন জেলার ৬টি আসনের প্রার্থীরা রয়েছে। এর আগে বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানিয়েছেন তাদের শঙ্কার কথা।
সবশেষ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরেও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বরিশাল-৩ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ নির্বাচনের দিন শঙ্কার কথা জানিয়েছেন। এর আগেও বরিশালের একাধিক প্রার্থী সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাদের নির্বাচনি এলাকায় বিশেষ দলের ক্যাডারদের দ্বারা ভোটারদের হুমকি, কেন্দ্রে যেতে বাধা ও কিংবা নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিতে চাপ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
বরিশাল-৩ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছে পাঁচটি লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও কোনো সুরাহা পাওয়া যায়নি। অভিযোগ দিলে তারা বলছেন এসপিকে জানাতে। এসপি আবার বলছেন বিষয়টিতে তাদের এখতিয়ার নেই। ওএসডি হওয়ার ভয়ে কেউ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। তাদের কাছে এলাকার সন্ত্রাসীদের তালিকা দিয়েছি। অথচ তারা কোনো ধরনের অভিযান কিংবা ব্যবস্থা নেয়নি। সন্ত্রাসীরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে ও ভোটারদের প্রভাবিত করছে।
এর আগে (২৬ জানুয়ারি) বরিশাল-৬ আসনকে নির্বাচনি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড করার জন্য বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ (বাকেরগঞ্জ সার্কেল) বাকেরগঞ্জ উপজেলার সব ইউনিয়ন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জদের প্রত্যাহার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ক্যাপ্টেন (অব.) মো. কামরুল ইসলাম খান।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং ওই সব কর্মকর্তারা একটি বিশেষ দলের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মাঠে কাজ করছেন। এ অবস্থায় সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।
এছাড়া জেলার ৬টি আসনের বিভিন্ন স্থানে একাধিক হামলা মামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় প্রার্থীসহ কর্মীদের কারণ দর্শানোর নোটিশও দিয়েছে আদালত। বরিশাল-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনি প্রচারে সমর্থকদের ওপর হামলা ও অব্যাহত হুমকির ঘটনায় বিএনপির প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপনসহ সাত কর্মীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন আদালত। এছাড়া বরিশাল-৪ আসনে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় নির্বাচনি সহিংসতার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। এ ঘটনায় দুই পক্ষ থেকেই করা হয়েছে মামলা।
এদিকে বরিশাল জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল এবং ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম সূত্রে জানা গেছে, তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরির মাধ্যমে ভোটকেন্দ্র ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, আনসার ও র্যাবের সমন্বয়ে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। সেখানে নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বড় একটি জনবল নিয়োগ করা হয়েছে পুলিশ ও আনসার বাহিনী থেকে। বরিশাল জেলা পুলিশের অধীনে সাধারণ কেন্দ্রে দুজন এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে তিনজন করে পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। জেলায় সর্বমোট ১ হাজার ৩৮২ জন পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি ৯৯টি মোবাইল টিম এবং ১২টি স্ট্রাইকিং টিম কাজ করবে।
অন্যদিকে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) ১ হাজার ২৮৫ জন সদস্য ১৯৯টি কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন। আধুনিক প্রযুক্তির অংশ হিসেবে বিএমপি পুলিশ ১০৩টি বডি অন ক্যামেরাও ব্যবহার করবে। সবচেয়ে বড় জনবল হিসেবে থাকছে ১০ হাজার ৮২৯ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য। প্রতিটি কেন্দ্রে তিনজন সশস্ত্র সদস্যসহ মোট ১৩ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন, যার মধ্যে নারী ও পুরুষ উভয় সদস্য অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
ভোটের মাঠে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর ভূমিকাও থাকবে জোরালো। বরিশাল জেলায় ১৪০০-১৫০০ জন সেনা সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে, যেখানে প্রতি উপজেলায় গড়ে ১০০ জন ও মেট্রোপলিটন এলাকায় ৪০০ জন সেনা সদস্য অবস্থান করবেন। প্রতি দুই থেকে তিনটি ইউনিয়নের জন্য একটি করে পেট্রোল টিম কাজ করবে।
পাশাপাশি বিজিবির ১৪ প্লাটুন সদস্য জেলার বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন করা হবে, যার মধ্যে বরিশাল সদরে ৫ প্লাটুন ও বাকি ৯টি উপজেলায় ৯ প্লাটুন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। র্যাবের পক্ষ থেকেও ৬টি বিশেষ পেট্রোল টিম সার্বক্ষণিক টহলে থাকবে।
নদীবেষ্টিত অঞ্চল হওয়ায় বরিশালের জলপথেও কড়া নজরদারি রাখা হয়েছে। নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জেলার নদীপথগুলোতে অবস্থান করবে জাহাজ ‘বানৌজা সালাম’, যেখানে ৬০ জন কর্মকর্তা ও নাবিক দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে কোস্টগার্ডের প্রায় ১৫০ জন সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। নদী এলাকার ৮টি ভোটকেন্দ্রের সুরক্ষায় নৌপুলিশও দায়িত্ব পালন করবে।
বরিশাল জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. খায়রুল আলম সুমন জানান, নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ক্রমাগত বাড়ানো হয়েছে ও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বরিশাল জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল জেলার ছয়টি আসনে মোট ৮৩৩টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ ভোট কেন্দ্র রয়েছে ৩৪২টি, গুরুত্বপূর্ণ ভোট কেন্দ্র ১৯৭টি ও অতি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ২৫৪টি।
বরিশাল-১ আসনে মোট ভোট কেন্দ্র ১২৯টি। এর মধ্যে সাধারণ ভোট কেন্দ্র ৪৩টি, গুরুত্বপূর্ণ ৫১টি ও অতিগুরুত্বপূর্ণ ৩৫টি। বরিশাল-২ আসনে মোট ভোট কেন্দ্র ১৪০টি। এর মধ্যে সাধারণ কেন্দ্র ২৫টি, গুরুত্বপূর্ণ ৫১টি ও অতি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ৬৪টি।
বরিশাল-৩ আসনের মোট ভোট কেন্দ্র ১২৬টি। এর মধ্যে সাধারণ ভোট কেন্দ্র ৩৭টি, গুরুত্বপূর্ণ ৩৯টি ও অধিক গুরুত্বপূর্ণ ৫০টি। বরিশাল-৪ আসনে মোট ভোট কেন্দ্র ১৪৯টি। এর মধ্যে সাধারণ ভোট কেন্দ্র ৯৮টি, গুরুত্বপূর্ণ ১৭টি ও অতি গুরুত্বপূর্ণ ৩৪টি।
বরিশাল-৫ আসনে মোট ভোট কেন্দ্র ১৭৬টি। এর মধ্যে সাধারণ ভোট কেন্দ্র ৯৩টি, গুরুত্বপূর্ণ ৪৬টি ও অতি গুরুত্বপূর্ণ ৩৭টি। বরিশাল-৬ আসনে ১১৩টি ভোট কেন্দ্র। এর মধ্যে সাধারণ ভোট কেন্দ্র ৪৬টি, গুরুত্বপূর্ণ ৩২টি ও অতিগুরুত্বপূর্ণ ৩৫টি।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটের দিন বরিশালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ১৬ হাজার সদস্য মাঠে সক্রিয় থাকবেন। অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন করতে নজিরবিহীন নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা হয়েছে গোটা বরিশাল। তবুও শঙ্কায় রয়েছেন জেলার ৬টি আসনের প্রার্থীরা রয়েছে। এর আগে বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানিয়েছেন তাদের শঙ্কার কথা।
সবশেষ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরেও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বরিশাল-৩ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ নির্বাচনের দিন শঙ্কার কথা জানিয়েছেন। এর আগেও বরিশালের একাধিক প্রার্থী সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাদের নির্বাচনি এলাকায় বিশেষ দলের ক্যাডারদের দ্বারা ভোটারদের হুমকি, কেন্দ্রে যেতে বাধা ও কিংবা নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিতে চাপ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
বরিশাল-৩ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছে পাঁচটি লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও কোনো সুরাহা পাওয়া যায়নি। অভিযোগ দিলে তারা বলছেন এসপিকে জানাতে। এসপি আবার বলছেন বিষয়টিতে তাদের এখতিয়ার নেই। ওএসডি হওয়ার ভয়ে কেউ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। তাদের কাছে এলাকার সন্ত্রাসীদের তালিকা দিয়েছি। অথচ তারা কোনো ধরনের অভিযান কিংবা ব্যবস্থা নেয়নি। সন্ত্রাসীরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে ও ভোটারদের প্রভাবিত করছে।
এর আগে (২৬ জানুয়ারি) বরিশাল-৬ আসনকে নির্বাচনি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড করার জন্য বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ (বাকেরগঞ্জ সার্কেল) বাকেরগঞ্জ উপজেলার সব ইউনিয়ন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জদের প্রত্যাহার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ক্যাপ্টেন (অব.) মো. কামরুল ইসলাম খান।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং ওই সব কর্মকর্তারা একটি বিশেষ দলের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মাঠে কাজ করছেন। এ অবস্থায় সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।
এছাড়া জেলার ৬টি আসনের বিভিন্ন স্থানে একাধিক হামলা মামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় প্রার্থীসহ কর্মীদের কারণ দর্শানোর নোটিশও দিয়েছে আদালত। বরিশাল-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনি প্রচারে সমর্থকদের ওপর হামলা ও অব্যাহত হুমকির ঘটনায় বিএনপির প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপনসহ সাত কর্মীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন আদালত। এছাড়া বরিশাল-৪ আসনে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় নির্বাচনি সহিংসতার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। এ ঘটনায় দুই পক্ষ থেকেই করা হয়েছে মামলা।
এদিকে বরিশাল জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল এবং ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম সূত্রে জানা গেছে, তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরির মাধ্যমে ভোটকেন্দ্র ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, আনসার ও র্যাবের সমন্বয়ে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। সেখানে নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বড় একটি জনবল নিয়োগ করা হয়েছে পুলিশ ও আনসার বাহিনী থেকে। বরিশাল জেলা পুলিশের অধীনে সাধারণ কেন্দ্রে দুজন এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে তিনজন করে পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। জেলায় সর্বমোট ১ হাজার ৩৮২ জন পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি ৯৯টি মোবাইল টিম এবং ১২টি স্ট্রাইকিং টিম কাজ করবে।
অন্যদিকে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) ১ হাজার ২৮৫ জন সদস্য ১৯৯টি কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন। আধুনিক প্রযুক্তির অংশ হিসেবে বিএমপি পুলিশ ১০৩টি বডি অন ক্যামেরাও ব্যবহার করবে। সবচেয়ে বড় জনবল হিসেবে থাকছে ১০ হাজার ৮২৯ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য। প্রতিটি কেন্দ্রে তিনজন সশস্ত্র সদস্যসহ মোট ১৩ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন, যার মধ্যে নারী ও পুরুষ উভয় সদস্য অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
ভোটের মাঠে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর ভূমিকাও থাকবে জোরালো। বরিশাল জেলায় ১৪০০-১৫০০ জন সেনা সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে, যেখানে প্রতি উপজেলায় গড়ে ১০০ জন ও মেট্রোপলিটন এলাকায় ৪০০ জন সেনা সদস্য অবস্থান করবেন। প্রতি দুই থেকে তিনটি ইউনিয়নের জন্য একটি করে পেট্রোল টিম কাজ করবে।
পাশাপাশি বিজিবির ১৪ প্লাটুন সদস্য জেলার বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন করা হবে, যার মধ্যে বরিশাল সদরে ৫ প্লাটুন ও বাকি ৯টি উপজেলায় ৯ প্লাটুন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। র্যাবের পক্ষ থেকেও ৬টি বিশেষ পেট্রোল টিম সার্বক্ষণিক টহলে থাকবে।
নদীবেষ্টিত অঞ্চল হওয়ায় বরিশালের জলপথেও কড়া নজরদারি রাখা হয়েছে। নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জেলার নদীপথগুলোতে অবস্থান করবে জাহাজ ‘বানৌজা সালাম’, যেখানে ৬০ জন কর্মকর্তা ও নাবিক দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে কোস্টগার্ডের প্রায় ১৫০ জন সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। নদী এলাকার ৮টি ভোটকেন্দ্রের সুরক্ষায় নৌপুলিশও দায়িত্ব পালন করবে।
বরিশাল জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. খায়রুল আলম সুমন জানান, নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ক্রমাগত বাড়ানো হয়েছে ও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বরিশাল জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল জেলার ছয়টি আসনে মোট ৮৩৩টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ ভোট কেন্দ্র রয়েছে ৩৪২টি, গুরুত্বপূর্ণ ভোট কেন্দ্র ১৯৭টি ও অতি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ২৫৪টি।
বরিশাল-১ আসনে মোট ভোট কেন্দ্র ১২৯টি। এর মধ্যে সাধারণ ভোট কেন্দ্র ৪৩টি, গুরুত্বপূর্ণ ৫১টি ও অতিগুরুত্বপূর্ণ ৩৫টি। বরিশাল-২ আসনে মোট ভোট কেন্দ্র ১৪০টি। এর মধ্যে সাধারণ কেন্দ্র ২৫টি, গুরুত্বপূর্ণ ৫১টি ও অতি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ৬৪টি।
বরিশাল-৩ আসনের মোট ভোট কেন্দ্র ১২৬টি। এর মধ্যে সাধারণ ভোট কেন্দ্র ৩৭টি, গুরুত্বপূর্ণ ৩৯টি ও অধিক গুরুত্বপূর্ণ ৫০টি। বরিশাল-৪ আসনে মোট ভোট কেন্দ্র ১৪৯টি। এর মধ্যে সাধারণ ভোট কেন্দ্র ৯৮টি, গুরুত্বপূর্ণ ১৭টি ও অতি গুরুত্বপূর্ণ ৩৪টি।
বরিশাল-৫ আসনে মোট ভোট কেন্দ্র ১৭৬টি। এর মধ্যে সাধারণ ভোট কেন্দ্র ৯৩টি, গুরুত্বপূর্ণ ৪৬টি ও অতি গুরুত্বপূর্ণ ৩৭টি। বরিশাল-৬ আসনে ১১৩টি ভোট কেন্দ্র। এর মধ্যে সাধারণ ভোট কেন্দ্র ৪৬টি, গুরুত্বপূর্ণ ৩২টি ও অতিগুরুত্বপূর্ণ ৩৫টি।

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২১:১৫
বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের মাঝে সংঘর্ষ হয়েছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার আন্ধারমানিক ইউনিয়নের কলকুঠি মাদ্রাসা এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এতে উভয় পক্ষের ১২ কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আজ মঙ্গলবার সকালে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে কাজিরহাট থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা করা হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের অভিযোগ, বিএনপি কর্মীরা তাঁদের প্রচারণায় হামলা করলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। অন্যদিকে বিএনপির দাবি, জামায়াতের কর্মীরা বিএনপির নির্বাচনী কার্যালয়ের সামনে বিশৃঙ্খলা করলে তাঁদের নেতা-কর্মীরা তাতে বাধা দেন এবং পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
বরিশাল-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা আবদুল জব্বারের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট সৈয়দ গুলজার আলম আজ মঙ্গলবার বেলা ৩টায় বরিশাল প্রেসক্লাব হলরুমে সংবাদ সম্মেলন করেন।
সৈয়দ গুলজার আলম বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিন সোমবার সন্ধ্যায় আন্ধারমানিক ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কলকুঠি মাদ্রাসা এলাকায় কর্মী-সমর্থকেরা প্রচারণা চালাচ্ছিলেন।
তখন স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীরা তাদের বাধা দেয়। এ নিয়ে জামায়াত নেতা-কর্মীরা প্রতিবাদ করেন। এ সময় বিএনপির নির্বাচনী অফিস থেকে লাঠিসোঁটা এনে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালায় বিএনপি কর্মীরা।
হামলায় নেতৃত্ব দেন মোফাজ্জেল দেওয়ান, মোহাম্মদ আলী, আয়নাল মাঝি, আনোয়ার হাওলাদারসহ আরও ২৫-৩০ জন। বিএনপির নেতা-কর্মীরা জামায়াতের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে থাকা ১০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে খালে ফেলে দেয় এবং একটি মোটরসাইকেল নিয়ে যায়।
এ সময় লাঠির আঘাতে কয়েকজনের মাথা ফেটে যায় এবং একজনের পা ভেঙে যায়। আহত কয়েকজন পাশের চায়ের দোকানে আশ্রয় নিলে সেখানেও বিএনপি নেতা-কর্মীরা হামলা চালায়। একপর্যায়ে জামায়াত নেতা-কর্মীদের ফোন পেয়ে সেনাবাহিনী এসে তাঁদের উদ্ধার করে।’
সৈয়দ গুলজার আলম আরও বলেন, ‘আহতদের মধ্যে আশঙ্কাজনক দুজনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকি পাঁচজনকে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এর আগেও গত ২ ফেব্রুয়ারি হামলাকারী মোহাম্মদ আলীসহ ধানের শীষের কর্মীরা জামায়াতে ইসলামীর মহিলা কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছিল। ওই ঘটনায় তখন কাজিরহাট থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল, কিন্তু পুলিশ কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় হামলার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে।’
হামলার বিষয়টি অস্বীকার করে বিএনপি কর্মী মোফাজ্জেল দেওয়ান বলেন, ‘জামায়াতের কর্মী-সমর্থকেরা প্রচারণা শেষ করে ফেরার সময় বিএনপির কার্যালয়ের সামনে মোটরসাইকেল রেখে মিছিল শুরু করেন। ওই সময় বিএনপি কর্মীরা তাদের বাধা দিলে তারা পাঁচ-ছয়জনকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এ নিয়ে সংঘর্ষ বাধে। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে খালে ফেলে দিয়েছে।’
আজ সন্ধ্যায় কাজিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নবীউল হাসান বলেন, বিএনপি-জামায়াতের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। ঘটনা তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।
বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের মাঝে সংঘর্ষ হয়েছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার আন্ধারমানিক ইউনিয়নের কলকুঠি মাদ্রাসা এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এতে উভয় পক্ষের ১২ কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আজ মঙ্গলবার সকালে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে কাজিরহাট থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা করা হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের অভিযোগ, বিএনপি কর্মীরা তাঁদের প্রচারণায় হামলা করলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। অন্যদিকে বিএনপির দাবি, জামায়াতের কর্মীরা বিএনপির নির্বাচনী কার্যালয়ের সামনে বিশৃঙ্খলা করলে তাঁদের নেতা-কর্মীরা তাতে বাধা দেন এবং পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
বরিশাল-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা আবদুল জব্বারের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট সৈয়দ গুলজার আলম আজ মঙ্গলবার বেলা ৩টায় বরিশাল প্রেসক্লাব হলরুমে সংবাদ সম্মেলন করেন।
সৈয়দ গুলজার আলম বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিন সোমবার সন্ধ্যায় আন্ধারমানিক ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কলকুঠি মাদ্রাসা এলাকায় কর্মী-সমর্থকেরা প্রচারণা চালাচ্ছিলেন।
তখন স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীরা তাদের বাধা দেয়। এ নিয়ে জামায়াত নেতা-কর্মীরা প্রতিবাদ করেন। এ সময় বিএনপির নির্বাচনী অফিস থেকে লাঠিসোঁটা এনে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালায় বিএনপি কর্মীরা।
হামলায় নেতৃত্ব দেন মোফাজ্জেল দেওয়ান, মোহাম্মদ আলী, আয়নাল মাঝি, আনোয়ার হাওলাদারসহ আরও ২৫-৩০ জন। বিএনপির নেতা-কর্মীরা জামায়াতের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে থাকা ১০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে খালে ফেলে দেয় এবং একটি মোটরসাইকেল নিয়ে যায়।
এ সময় লাঠির আঘাতে কয়েকজনের মাথা ফেটে যায় এবং একজনের পা ভেঙে যায়। আহত কয়েকজন পাশের চায়ের দোকানে আশ্রয় নিলে সেখানেও বিএনপি নেতা-কর্মীরা হামলা চালায়। একপর্যায়ে জামায়াত নেতা-কর্মীদের ফোন পেয়ে সেনাবাহিনী এসে তাঁদের উদ্ধার করে।’
সৈয়দ গুলজার আলম আরও বলেন, ‘আহতদের মধ্যে আশঙ্কাজনক দুজনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকি পাঁচজনকে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এর আগেও গত ২ ফেব্রুয়ারি হামলাকারী মোহাম্মদ আলীসহ ধানের শীষের কর্মীরা জামায়াতে ইসলামীর মহিলা কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছিল। ওই ঘটনায় তখন কাজিরহাট থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল, কিন্তু পুলিশ কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় হামলার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে।’
হামলার বিষয়টি অস্বীকার করে বিএনপি কর্মী মোফাজ্জেল দেওয়ান বলেন, ‘জামায়াতের কর্মী-সমর্থকেরা প্রচারণা শেষ করে ফেরার সময় বিএনপির কার্যালয়ের সামনে মোটরসাইকেল রেখে মিছিল শুরু করেন। ওই সময় বিএনপি কর্মীরা তাদের বাধা দিলে তারা পাঁচ-ছয়জনকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এ নিয়ে সংঘর্ষ বাধে। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে খালে ফেলে দিয়েছে।’
আজ সন্ধ্যায় কাজিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নবীউল হাসান বলেন, বিএনপি-জামায়াতের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। ঘটনা তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।

Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.